বরিশালে এখনও চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না জ্বালানি তেল

বরিশালে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছে গ্রাহকরা। সেই সাথে বরিশালের বাজারে ডিজেল-পেট্রোল পাওয়া গেলেও অকটেন পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের সংকট নেই বলে দাবি ডিপো কর্তৃপক্ষের। আর ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বরতরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার চেয়ে কম তেল দেওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে অঘোষিত রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
(৭ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, রেশনিং পদ্ধতিতে দেওয়া জ্বালানি মানতে চাইছেন না গ্রাহকরা। মন্টু খান, আরিফুর রহমান, নুরুল আমিনসহ কয়েকজন গ্রাহক বলেন, ৩০০ টাকার তেল মোটরসাইকেলের জন্য যথেষ্ট নয়। কেবল যারা শহরে যাতায়াত করেন তাদের জন্য ঠিক থাকলেও দূরে যাদের যাতায়াত করতে হয় তাদের বেশ সমস্যা হচ্ছে।
অপরদিকে ব্যক্তিগত জিপ গাড়ির চালক শামীম আহমেদ বলেন, পাম্পগুলো থেকে যেভাবে জ্বালানি তেল দেওয়া হচ্ছে তাতে বেশি দূরত্বে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই গত ১৫ দিন ধরে প্রয়োজন হলেও গাড়ি শহরের বাইরে নিয়ে যাচ্ছি না। প্রয়োজনে থ্রি-হুইলারসহ গণপরিবহন ব্যবহার করছেন বলে জানান তিনি। অপরদিকে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকরা বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে তেল দেওয়া নিয়ে প্রায়ই বচসা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা উচিত বলে মনে করেন তারা।
এদিকে বরিশালের তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। সেইসঙ্গে তেল পাচার রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর রয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে চালিয়ে ৪ হাজার ২২৮ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড ও প্রশাসন। এসময় মামুন মিয়াজী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের চরচটকিমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালানো হয়। এসময় একটি ট্রলার থেকে ২০টি ব্যারেলে রাখা প্রায় ৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মামুন মিয়াজী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক মামুন বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বরিশালের শ্রীপুর থেকে এসব তেল নিয়ে ভোলার চরচটকিমারা এলাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।