মঠবাড়িয়ায় ৮ বিবাহ করা চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ফারুক হোসেন নামে চাকুরিচ্যুত এক সেনা সদস্য প্রতারণা মামলায় ফের গ্রেফতার হয়েছেন। ফারুক হোসেন উপজেলার ধানিশাফা ইউনিয়নের বুড়িরচর গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে কমপক্ষে পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে ফারুক হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন, চাকরিরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন জনকে সেনাবাহিনী সহ বিভিন্ন পদমর্যাদায় চাকরী দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়, শুধু এলাকাতেই নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাকরী দেয়ার কথা বলে একইভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়।
এছাড়াও সেনা কর্মকর্তা পরিচয় বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ৮টি বিবাহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে রাজশাহীতে চাকরী দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় পুলিশের হাতে সরাসরি গ্রেফতার হয়। এরপরে তাকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরিচ্যুত হওয়ার পরেও তার প্রতারণা থেমে থাকে নি, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা গুলো যথাক্রমে, খুলনা ফুলতলা থানায় ২০১৮ সালে দায়েরকৃত মামলা জি আর নম্বর ২৮, পিরোজপুর সদর থানায় ২০২২ সালে দায়ের কৃত মামলা জি আর নম্বর ১৭৮, ২০২৩ সালে যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা নম্বর ১২৪৪।
ভুক্তভোগী কাঁঠালিয়া উপজেলার চেহেরা গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম ৮ এপ্রিল বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, প্রতারক ফারুক হোসেন ও তার সহযোগী নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার তিলনা গ্রামের মৃত ফইমুদ্দিন মন্ডলের ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম, চাকরি দেয়ার কথা বলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় মামলা হলে সাম্প্রতিক মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ ফারুকের নিজ বাড়ির এলাকা থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করেন। ফারুক বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন, বিগত দিনগুলোতে ফারুকের সাথে গল্পের ছলে এ ধরনের প্রতারণার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি অকপটে সকল ঘটনা স্বীকার করেন।
প্রায় কোটি টাকা হারিয়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগীরা প্রতারক ফারুক ও তার সহযোগীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও টাকা ফেরত পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
এইচকেআর