বরিশালে এক বধূর দুই স্বামী!, উন্মোচন হওয়ায় তোলপাড়

দিনে এক স্বামী, রাতে অন্যজন! সিনেমার গল্পকেও হার মানালো বরিশালের মুক্তা বেগমের বাস্তব জীবন। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে দুই স্বামীর সাথে সমান্তরাল সংসার চালিয়ে আসা এই নারী অবশেষে ধরা পড়েছেন স্বামী এবং সতিনের হাতে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া কালাখার বাড়ি এলাকায়।
অভিযুক্ত নারী মুক্তা নগরীর বিএম কলেজ এলাকার ব্যবসায়ী আল মামুন বাচ্চুর স্ত্রী এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সুরুজ সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ এলাকার দুই সন্তানের জননী জান্নাত আরার স্বামী। অভিযুক্ত মুক্তা দিনের বেলা স্বামী মামুনকে কাজে পাঠিয়ে বান্ধবির বাসার কথা বলে চলে আসতেন কাউনিয়া কালাখার বাড়িতে নিজের ভাড়া করা বাসায়।
যেখানে দ্বিতীয় স্বামী আসাদুজ্জামান সুরুজের সাথে চলতো তার দিনের বেলাকার সংসার। এই গোপন সংসারের খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন সুরুজের প্রথম স্ত্রী জান্নাত আরা। স্ত্রী জান্নাত আরার অভিযোগ, ২০০৯ সালে সুরুজের সাথে বিয়ে হয় তার। সংসারে একটি ছেলে এবং একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে সুরুজের অপরাধের ইতিহাস নতুন নয়।
এর আগে ঢাকায় এক নারীকে বাসায় ডেকে অনৈতিক সম্পর্ক করে। তখন সেই নারীকে মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাকে দেড় লাখ টাকা খরচ করে ছাড়িয়ে এনেছিলেন স্ত্রী জান্নাত। কথা ছিল বিদেশে যাবেন সুরুজ। তা না করে দেড় বছর আগে জড়িয়ে পড়েন মুক্তার সাথে পরকিয়ায়।
এদিকে গত শুক্রবার বিকেলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই ভাড়া বাসায় হানা দেন জান্নাত আরা এবং মুক্তার প্রথম স্বামী আল মামুন। ঘরের দরজা খুলতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন মুক্তা। বরং সেখানে উপস্থিত তার দীর্ঘদিনের স্বামী মামুনকেই অস্বীকার করেন তিনি।
স্বামী আল মামুন বাচ্চু বলেন, “১৪ বছর আগে মুক্তাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। ভালোবেসে নবগ্রাম রোড এলাকায় মুক্তাকে লিখে দিয়েছি একটি স-মিল। গোপনে সেই সমিল বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছে। আমার সম্পদ আত্মসাৎ করে সেই টাকা দিয়ে দ্বিতীয় স্বামী সুরুজকে বিলাসী জীবন উপহার দিয়েছে। সুরুজকে কিনে দিয়েছে একটি মোটরসাইকেল। এমনকি আমার টাকা দিয়েই সে গোপনে বাসা ভাড়া করে সরুজকে নিয়ে থাকছে। রাতে বাসায় যায় আর দিনে সুরুজের সাথে। জিজ্ঞাসা করলে বলতো আমি বান্ধবির বাসায় যাই।
এদিকে সুরুজের প্রথম স্ত্রী জান্নাত আরার অভিযোগ, মুক্তা শুধু তার একার সংসারই ভাঙেননি, ইতোপূর্বে তার আরও একাধিক বিয়ে রয়েছে। এখন স্বামীকে ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানর ভরন-পোষণের দাবি তুলেছেন জান্নাত।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন, ঘটনার পর ওই নারী এবং পুরুষ লোককে থানায় ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা এসেনি। ভুক্তভোগীরা মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্বাসভঙ্গ আর অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নিঃস্ব দুই পরিবার এখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতারণার এমন চাতুর্য এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।