বাউফলে ৬০ ঘণ্টা ধরে ৪ স্কুলছাত্রী নিখোঁজ

পটুয়াখালীর বাউফলে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে চার স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। ঘটনার পর দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ এই চার কিশোরীকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
রোববার (১০ মে) সকালে উপজেলার নাজিরপুর-তাঁতেরকাঠি ইউনিয়নের নিজ নিজ বাড়ি থেকে পৃথকভাবে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বের হয় তারা। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় রোববার রাতেই বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, নিখোঁজদের মধ্যে সানজিদা আক্তার (১২) ও ইসমত জেরিন (১২) নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সানজিদা আক্তার রায়সা (১৩) একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। এছাড়া আয়শা আক্তার (১৫) নামের অপর কিশোরী অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। প্রতিদিনের মতোই রোববার সকালে তারা বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।
নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের বিদ্যালয়ের নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী রোববার শ্রেণি কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিল। বিকেলে অভিভাবকদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। ইতোমধ্যে তাদের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেয়া হয়েছে, তবে তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে বিদ্যালয়ে এবং পরে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে রাত ১২টার দিকে তারা বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৫৫৮) দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নিখোঁজ ছাত্রীদের সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন নেই। এ কারণে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে বাস ও লঞ্চগুলোতে বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের উদ্দেশে বেরিয়ে ওই চার কিশোরী আর বাড়ি ফেরেনি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে পুলিশ।
এইচকেআর