ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

Motobad news

অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শঙ্কা সেশন জটের

অচল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শঙ্কা সেশন জটের
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

শিক্ষকদের ডাকা শাটডাউন কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেশনজট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এর মধ্যে সোমবার রাতে সাধারণ সভায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা। 

জানা গেছে, পদোন্নতিসহ সংবিধি সংকট নিয়ে সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষকরা। এরপর সোমবার সকাল থেকে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় অবস্থান নেন শিক্ষকরা। এরপর বিভিন্ন দপ্তর ও শ্রেণিকক্ষের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। গতকালও ক্যাম্পাস ছিল প্রায় শিক্ষার্থীশূন্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, শিক্ষকদের সাধারণ সভায় অভিন্ন নীতিমালার আলোকে সংবিধি প্রণয়নের উদ্যোগ বাতিল এবং ২০১৫ সালের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সব শিক্ষকের  পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতোমধ্যে স্বাক্ষর সংগ্রহ চলছে। 

সভায় ১০৬ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়েছে বলেও জানা গেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলছেন, বর্তমানে কর্মরত সব শিক্ষকের পদোন্নতি একই প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। কেউ পুরোনো নীতিমালায় আর কেউ নতুন সংবিধির আওতায় পদোন্নতি পেলে বৈষম্য তৈরি হবে। এদিকে চলমান অচলাবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। মেহেদি হাসান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনিতেই সেশনজট লেগে থাকে। 

এখন শাটডাউনের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। চার বছরের কোর্স শেষ করতে ছয় বছর লেগে যাবে। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক বিভাগের পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর স্থগিত হয়ে গেছে। কবে পরীক্ষা হবে, কিছুই জানি না। ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা অনিশ্চয়তায় আছি।

শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমরাও ক্লাস নিতে চাই। কিন্তু ন্যায্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। উপাচার্যের কথায় আমরা আস্থা পাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ইউজিসির বিধি অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি দিতে সময় লাগবে। এখনই পদোন্নতি দিলে পরে বেতন-ভাতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন