দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, সরকার দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
শুক্রবার সকাল ৯ টায় নগরীর হোটেল গ্র্যান্ড পার্কের সম্মেলনকক্ষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড নিশ্চিতকরণ, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, এইচপিভি টিকাদান এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ‘ওপেন এসআরপি’ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মাল্টি-সেক্টোরাল অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হবে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড, যার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রয়োজনের সময় দেশের যেকোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা প্রদান সহজ হবে।
প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শুধু চিকিৎসাকেন্দ্রিক না রেখে ধীরে ধীরে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে। কেননা রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অধিক কার্যকর ও সাশ্রয়ী। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি দায়িত্বশীল, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও প্রোঅ্যাকটিভ ভূমিকা পালন করেন, তাহলে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি এবং জনগণের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং কমিউনিটি ক্লিনিকসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব জনবল ও প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি পরিবারে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং অচিরেই জনগণ এর দৃশ্যমান সুফল দেখতে পাবে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ ইউনিসেফ এর হেলথ ম্যানেজার ড. রিয়াদ মাহমুদ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় পরিচালক আবদুর রাজ্জাক।
এসময় বরিশাল বিভাগের সকল সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এইচকেআর