ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে বরিশাল সিভিল সার্জনের কালো আইন স্পিকারের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী সমবায় দল মহানগরের আহ্বায়কের সৌজন্য সাক্ষাৎ নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেত্রী নাসরিন স্পিকারের সঙ্গে মজিবর রহমান সরোয়ার'র সৌজন্য সাক্ষাৎ ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারীরা গণতন্ত্রের শত্রু: আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এখন থেকে রাতের ভোটে কেউ জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না: জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭ মঠবাড়িয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য শামিম শাহনেওয়াজের বাবা মজিবুর রহমানের দাফন সম্পন্ন ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে : ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এসআরবি’র অন্যতম প্রধান দায়িত্ব
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘ঘরবাড়ি’ যেন জেলহাজত!

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘ঘরবাড়ি’ যেন জেলহাজত!
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক থেকে শুরু করে কর্মচারী–সবার মধ্যেই যেন পাল্লা দিয়ে জেল খাটার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। চেক জালিয়াতি, আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম, ফৌজদারি অপরাধ কিংবা পারিবারিক কলহ; মামলার কারণ যা-ই হোক না কেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার ঠিকানা হয়েছে জেলহাজত। কয়েক দিন জেল খেটে ফের বীরদর্পে কর্মস্থলে যোগদানের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিবেশ।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এই ‘কারাবাস’ সংবাদ। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতে, উচ্চশিক্ষার এই বিদ্যাপীঠ এখন যেন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে ববির অন্তত কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিভিন্ন মামলায় জড়িয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দেওয়া চেকের টাকা পরিশোধ না করায় দায়ের করা মামলার আসামি। আবার অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে পারিবারিক সহিংসতার মামলা। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও ক্লাস-পরীক্ষা বা দাপ্তরিক কাজে অংশ নিচ্ছেন।


    সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দেখা যায়, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলামকে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ চেকের মামলায় পটুয়াখালীর বাউফল থেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে গিয়েছিলেন।

    শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক সেলিনা আক্তারকে সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় আদালত জেলহাজতে পাঠায়। যদিও তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা সংক্রান্ত সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক (বাবুর্চি) থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের বেশ কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধেও জেল খাটার তথ্য মিলেছে।

    শিক্ষার্থীরা বলছেন, যাদের হাত ধরে দেশ গড়ার কথা, তাদের এমন ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আব্দুল আলীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ বা লেনদেনের দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না। তবে আইনের দৃষ্টিতে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে বা দণ্ডিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। 

    ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অন্যদের কারাবাসের বিষয়টি দাপ্তরিকভাবে তার কাছে এখনও পৌঁছায়নি। অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে সবার বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ