র্যাবের অভিযানে ডাকাত সরদার ও ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার

পিরোজপুরের চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার প্রধান সন্দিগ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত সরদার মান্নু হাওলাদার (৫৪) এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত রায়হান তালুকদারকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব-৮ এর তথ্য মতে, সোমবার সকালে মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর সদর থানার ডাকাতি মামলার আসামি মান্নু হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি শিবচরের উত্তর বাখরেরকান্দি এলাকার গণি হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট ভোর রাত ৪টা ৪০ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পিরোজপুর সদর থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণকাঠী এলাকায় এমরান শেখের (৩০) বাড়িতে ৭-৮ জন সশস্ত্র ডাকাত হানা দেয়। তারা কেচি গেট ও দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানায় ডাকাতি মামলা হয়। পুলিশের অধিযাচনপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে মান্নুকে গ্রেফতার করে। তাকে শিবচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত রায়হান তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি গোসাইরহাটের পূর্বের চর এলাকার আলাউদ্দিন ওরফে মনা তালুকদারের ছেলে।
র্যাব জানায়, গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রায়হান টিস্যু দিয়ে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে তাকে পাশের পানের বরজে নিয়ে যায়। সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে প্রথমে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গোসাইরহাট থানায় ধর্ষণ মামলা করা হয়।
ঘটনার পর রায়হান এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে যায় এবং অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে র্যাব-৮ ও র্যাব-১০-এর যৌথ দল। পরবর্তী রায়হানকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এইচকেআর