ঝালকাঠিতে বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণ সামগ্রী, নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার তারুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পাশের একটি সড়ক নির্মাণের সামগ্রী রেখে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত পাঁচ দিন ধরে শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় যুবকরা ওই মাঠে কোন খেলাধুলা করতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝালকাঠির পুলিশ বক্স থেকে সারেঙ্গল বাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাকিম এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়। স্থানীয় জাকির গাজী নামের এক ঠিকাদার সড়ক নির্মাণ কাজ করছেন। এ কাজের নির্মাণ সামগ্রী বিদ্যালয়ের মাঠে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত পাঁচ দিন ধরে সড়কের নির্মাণ কাজের সামগ্রী পাথর, বিটুমিন, বেইজ ঢালায়ের ডেরাম, মিকচার মেশিন বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় সমস্যা হচ্ছে। অনেকের পায়ে পাথর ঢুকে আহত হয়েছে বলে জানাগেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঠিকাদার ঝালকাঠি পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাই এলাকার মানুষ কিছু বলছে না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের মালামাল রাখতে নিষেধ করলেও ঠিকাদারের লোকজন তা শোনেনি। উল্টো মালামাল যাতে চুরি না হয়, সেজন্য একপাশে নেট দিয়ে আটকে দিয়েছে। এতে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থী ও স্থানীয় খেলোয়াররা।
দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, মাঠের এক পাশে বিশাল অংশজুড়ে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। ইট, পাথর ও বালুর ধুলাবালিতে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করা যাচ্ছে না। বাতাসে এগুলো উড়ে ক্লাসের মধ্যে ঢুকছে।
জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী এ মাঠে জাতীয় দলের সাবেক দেশ সেরা গোলরক্ষক আমিনুল ইসলাম ও সাবেক অধিনায়ক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল খেলেছেন। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত খেলোয়ার এখানে বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা করে।
স্থানীয় ক্রীকেটার মেহেদী হাসান ও ফুটবলার আজিজুল রহমান বলেন, মাঠের মধ্যে নির্মান সামগ্রী রাখায় তাদের খেলাধূলা করতে কষ্ট হচ্ছে। অনেকে আহত হয়েছে। দ্রুত এর একটি সমাধান করা উচিৎ বলে মনে করেন তাঁরা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তাঁরা।
তারুলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকছেদ আলী বলেন, ঠিকাদার কাউকে না জানিয়ে মালামাল মাঠে রেখেছেন। এখন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় যুবকরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এগুলো দ্রুত এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ঠিকাদার নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।
ঠিকাদার জাকির গাজী বলেন, এই সড়কের অন্য কোথায়ো খালি জায়গানা থাকার কারণে বাধ্য হয়ে স্কুলের মাঠে নির্মান সামগ্রী রাখা হয়েছে। তবে খেলোয়ারদের যেন সমস্যা না হয় সেজন্য নেট দিয়ে একপাশ আটকে দেওয়া হয়েছে।
এইচকেআর