মঠবাড়িয়া পৌর শহরে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল, অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে স্থাপন করা হয়েছিল শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। কিন্তু স্থাপনের দুই বছরের মাথায় ক্যামেরাগুলোর অধিকাংশই অচল হয়ে পড়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। পরে কিছু ক্যামেরা বিকল হয়ে যায়। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টে নজরদারি ব্যাহত হচ্ছে। এ সুযোগে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হতো। কিন্তু ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে পড়ায় সেই সুবিধা আর পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে অপরাধীদের শনাক্ত করতে বেগ পেতে হয়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপন করা ক্যামেরার ফুটেজের সহায়তায় কিছু অপরাধী শনাক্ত করা গেলেও সব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না।
২০২৪ সালে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং পৌরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে ক্যামেরা স্থাপনের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা ধরে রাখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শহরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে। এতে অপরাধ সংঘটনের পর জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মঠবাড়িয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, পৌর শহরকে নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী বলেন, অপরাধীরা কোনো অপরাধ সংঘটনের আগে আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কি না, তা বিবেচনা করে। পৌরসভা সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সহযোগিতা করবে।
এইচকেআর