বাকেরগঞ্জে তিনমাস অতিবাহিত হলেও আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ!

বরিশালে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়না জারির তিনমাস অতিবাহিত হলেও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে উল্টো থানার অফিসার ইনচার্জ বলছেন এ ধরণের অসংখ্য ওয়ারেন্ট থানায় জমা রয়েছে।
গ্রেফতারি পরোয়না জারিকৃত আসামি হলেন, বাকেরগঞ্জ থানার বলইকাঠী গ্রামের ইয়াকুব আলী হাওলাদারের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুবিন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মেট্রোপলিটন বন্দর থানাধীন পতাং গ্রামের আব্দুল হালিম খানের ছেলে মেহেদি হাসান প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আব্দুল্লাহ আল মুবিন ওরয়ে ইমামকে একমাত্র আসামি করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী গোলাম মতুর্জা তপু। তিনি বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি আব্দুল্লাহ আল মুবিন ওরফে ইমামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়না জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সু-সম্পর্ক থাকার সুযোগে মেহেদী হাসানের কাছ থেকে নগদে ৬ লাখ টাকা ধার নেন আব্দুল্লাহ আল মুবিন। পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ২০২৫ সালের ২২ জুলাই মুবিন তাঁর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, বরিশাল শাখার হিসাব নম্বরের ৬ লাখ টাকার একটি চেক বাদীকে প্রদান করেন। পরদিন, অর্থাৎ ২৩ জুলাই চেকটি নগদায়নের জন্য সোনালী ব্যাংক লিমেটেড বরিশাল কর্পোরেট শাখায় জমা দিলে মুবিনের ব্যাংক হিসাবে অপর্যাপ্ত তহবিল থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করে দেয়। পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার লক্ষ্যে মেহেদী হাসান (বাদী) তার আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই আইনি নোটিশ প্রেরণ করেন। কিন্তু নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিন পার হয়ে গেলেও পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি এবং নোটিশের কোনো জবাবও দেন না আব্দুল্লাহ আল মুবিন। এ ঘটনায় আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আদালত থেকে মামলাটির ওয়ারেন্ট ২০২৬ সালের ৬ জুলাই বাকেরগঞ্জ থানায় পৌছলে এখন পর্যন্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে সূত্রে জানা যায়, আসামি আব্দুল্লাহ আল মুবিন এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বাদী ও তাঁর পরিবার।
এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আদিল হোসেন বলেন, এ ধরণের অসংখ্য ওয়ারেন্ট থানায় পড়ে রয়েছে, তামিল হয়নি। বর্তমানে এই থানায় ১ হাজার ওয়ারেন্ট পড়ে রয়েছে। ওয়ারেন্ট তামিল করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক সময় আসামিকে পলাতক থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয় না।
এইচকেআর