ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

Motobad news

ভোক্তাদের পকেট কাটছেন বরিশালের খাবার হোটেল ব্যবসায়ীরা

ভোক্তাদের পকেট কাটছেন বরিশালের খাবার হোটেল ব্যবসায়ীরা

পণ্যের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ভোক্তাদের পকেট কাটছেন বরিশালের খাবার হোটেল ব্যবসায়ীরা। দ্রব্যমূল্যের সাথেসাথে খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তারাও। বিশেষ করে জনবহুল লঞ্চ ও বাসস্ট্যান্ডকেন্দ্রিক গজিয়ে ওঠা হোটেলগুলো গ্রাহকদের এক প্রকার জিম্মি করছে। দূর দূরান্তের যাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বাড়তি অর্থ। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ঘটছে অনাকাঙ্খিত ঘটনাও।

আটা-ময়দার কেজির প্যাকেটের দাম অন্তত ৫/৬ টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি রুটি-পরোটার দাম ৫ টাকা বাড়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না গ্রাহকরা। করোনাকালে এমনতিই আয় সীমাবদ্ধ। এ অবস্থায় খাবার বিক্রিতে কারসাজির আশ্রয় নেয়া হোটেল ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি ভোক্তাদের।

নগরীর নথুল্লবাদ, রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চ ও খেয়াঘাটগুলো ঘুরে খাবারের দাম বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খাবার বাড়ি, ভোজন বিলাস, ঢাকাইয়া হোটেল, মোসলেম গাজীর খাবার হোটেল, সিঙ্গারা পয়েন্টসহ বেশ কয়েকটি হোটেল খাদ্যপণ্যে বাড়তি দাম নিচ্ছে।

আলাপকালে রুপাতলীর ভোজন বিলাসের ম্যানেজার মামুন বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। প্যাকেট ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। তাই বাধ্য হয়ে রুটি-পরোটার বাড়তি দাম নিচ্ছি। নিজের লস করে তো আর ব্যবসা চালানো যাবে না। তবে কেজিতে ৫ টাকা বাড়লে প্রতিটি রুটি-পরোটার দাম দ্বিগুণ রাখার কারণ কি- এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি।


রাজাপুরগামী ইয়াসিন, সোহেলসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতার সাথে আলাপকালে তারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জানান, আটা বা ময়দার দাম কেজিতে হয়ত ৫/৬ টাকা বেড়েছে। কিন্তু তাই বলে প্রতিটি রুটি বা পরোটার দাম দ্বিগুণ বেড়ে ১০ টাকা হতে পারে না। তারা এটিকে চাঁদাবাজি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।     

বাংলাবাজারের ব্যবসায়ী সোহেল খান জানান, বেশ কয়েকদিন যাবত আটা-ময়দার দাম বেড়েছে। ১ কেজির প্যাকেট ময়দা বর্তমানে ৫০ টাকায় বিক্রি করছি। কিছুদিন আগে যার দাম ছিল ৪৫ টাকা। এছাড়া ১ কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। পূর্বে দাম ছিল ৩৫ টাকা।

তিনি বলেন, মুদি পণ্যের দাম সবসময়ই ওঠানামা করে। এরই ধারাবাহিকতায় হয়ত আটা-ময়দারও দাম বেড়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমী রাণী মিত্র জানান, কোন অবস্থাতেই প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্যের চেয়ে বাড়তি দাম নেয়া যাবে না। বাজারে তাদের নজরদারি আছে। অভিযান পরিচালনা করছেন নিয়মিত। বাড়তি দাম নেবার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, খাবার হোটেলগুলো যদি কারসাজি করে থাকে সে বিষয়ে আইন আছে। ভোক্তা পর্যায়ে অভিযোগ পেলে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারের এই কর্মকর্তা।


এমবি