ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

Motobad news

রেলস্টেশনে হামলা চালিয়েছে কিয়েভ, দাবি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের

রেলস্টেশনে হামলা চালিয়েছে কিয়েভ, দাবি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন


ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ক্রামাতোরস্কে শুক্রবার যে রকেট হামলা হয়েছে, সেজন্য দায়ী ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। দেশটিতে অভিযানরত রুশ বাহিনী বা সেখানকার রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটিকে ওই মুখপাত্র বলেন, ‘রেল স্টেশন হামলায় যে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো তুসকা ইউ মিসাইল। এটি একেবারেই সেকেলে ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং রুশ বাহিনী, দনেতস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এটি ব্যাবহার করা বাদ দিয়েছে বেশ আগেই।’

‘তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এখনও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, আমরা আগেও তাদেরকে তুসকা ইউ ব্যবহার করতে দেখেছি।’

এই দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘দনেতস্ক ও লুহানস্কের কোথাও এখন পর্যন্ত রুশ বাহিনী আক্রমন করেনি। এ পর্যন্ত যতগুলো হামলা ওই দু’ অঞ্চলে হয়েছে, তার সবগুলোই করেছে ইউক্রেনের সেনারা।’

‘আমরা আরও জানি, কয়েকদিন আগে ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো— দনবাস (দনেতস্ক ও লুহানস্ক) অঞ্চলে হামলার ব্যাপকতা বাড়তে পারে এবং বেসামরিক লোকজন যেন নিরাপদ স্থানে সরে যান। তার দু’দিনের মধ্যেই রেলস্টেশনে হামলা হলো এবং সেখানে ব্যবহার করা হলো এমন অস্ত্র, যা রাশিয়া ব্যবহার করে না।’

‘শুক্রবারের এই হামলা আসলে যুদ্ধকে দীর্ঘায়ীত করা ও রাশিয়াকে উস্কানি দেওয়ার জন্য কিয়েভের কৌশল।’

শুক্রবার ক্রামতোরস্কের রেলস্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ শিশুসহ ৩৯ জন নিহত হন, আহত হন আরও শতাধিক। ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় রেল পরিষেবা বিভাগের দনেতস্ক শাখার বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকালের দিকে পরপর ২টি রকেট আঘাত হানে ওই স্টেশনটিতে।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের যে কয়েকটি রেলস্টেশন এখনও যাত্রীসেবা দিয়ে যাচ্ছে সেসবের মধ্যে ক্রামাতোরস্ক শহরের ওই স্টেশনটি অন্যতম। রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় যাত্রীদের নিরাপদস্থানে সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রুট  হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্রামাতোরস্ক।  শুক্রবার সকালে যখন রকেট হামলা হয়, সে সময়ও হাজার হাজার মানুষ ছিলেন স্টেশন ও তার আশপাশের এলাকায়।

দনেতস্কের গভর্নর পাভলো কিরিলেনহো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান, দনবাস (দোনেতস্ক ও লুহানস্ক) এলাকায় রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকায় বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নিতে কয়েকটি ট্রেন অপেক্ষা করছিল ক্রামাতোরস্ক স্টেশনে। ট্রেনগুলোতে ওঠার জন্য যখন যাত্রীদের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে, সে সময়েই আঘাত ২ টি রকেট আঘাত হানে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। অভিযান শুরুর দুই দিন আগে, ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই ভূখণ্ড দনেতস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। এই দুই ভূখণ্ডকেই একত্রে দনবাস রিপাবলিক বলা হয়।’

ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে সেনাদের দনবাসে সরিয়ে আনছে রাশিয়া। দনেতস্ক  ও লুহানস্কে দিন দিন তীব্র হচ্ছে রুশ-ইউক্রেন সেনাদের লড়াই।


এসএম
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন