ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

Motobad news

সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ, ২৫ হাজার টাকা জরিমানা
ফাইল ছবি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

পরকীয়া করে বিয়ে। এর পর ছাড়াছাড়ি। কিন্তু পুনরায় সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন এক যুবক। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে তার সাবেক স্ত্রীকে। 


উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বাসিন্দা দুই সন্তানের জননী ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে আসা যুবক রাশিদুল ইসলাম (৩০) পার্শ্ববর্তী জেলা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার দত্তখাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা। 

তাদের আটক করে খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আটকে রাখা ও সালিশের মাধ্যমে অর্থ আদায় করার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছেন উপজেলার সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠু। শনিবার রাত ৮টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে এই সালিশবৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা জানাজানি হয় রোববার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খানমরিচ ইউপির জনৈক ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেম হয় রাশিদুল ইসলামের। একপর্যায়ে আগের স্বামীকে ও দুই সন্তান রেখে ওই নারী রাশিদুলকে বিয়ে করেন। কিন্তু রাশিদুলের আগে স্ত্রী ও সন্তান থাকায় বিয়ের কিছুদিন পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। 

এর পর ওই নারী তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে পুনরায় যোগাযোগ তৈরি হলে সেই সূত্রে রাশিদুল শনিবার বিকালে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসে। কতিপয় লোক তাদের একত্রে দেখে ফেলে আটক করে ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন মিঠুকে জানান। চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাদের সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে শালিসের আয়োজন করা হয়। 

সালিশে রাশিদুল ও তার সাবেক স্ত্রীকে যথাক্রমে ২০ হাজার ও পাঁচ হাজার মোট পঁচিশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সালিশে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ছাড়াও গ্রামের আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

ঘটনায় রাশিদুল ইসলাম জানান, তার সাবেক স্ত্রী তাকে সাক্ষাতের জন্য ডেকেছিলেন। 

তবে এ বিষয়ে তার সাবেক স্ত্রীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন মিঠু সাক্ষাতে ছাড়া কথা বলেবেন না বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে অন্য মাধ্যমে পাওয়া তার বক্তব্যে জরিমানা আদায়ের বিষয়টি তাকে স্বীকার করতে শোনা যায়। সেখানে জরিমানার টাকা ওই নারী পিতৃহীন সন্তানদের ভরণপোষণে ব্যয় করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সামাজিকভাবে মীমাংসার জন্য সালিশ আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এই সালিশ গ্রাম আদালতের মাধ্যমে হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন