ঢাকা শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা জ্বালানি তেলে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার ঈদের ছুটির সাতদিনে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসা নিয়েছে আড়াই হাজার সেবাগ্রহীতা স্বাধীনতা দিবসে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপি নেত্রী নাসরীন কালরাত্রির রক্তঋণ ও বিশ্ববিবেকের দায়: ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় বাস উল্টে নদীতে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী বাউফলে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, দুইজনের মরদেহ উদ্ধার অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বরিশালে গণহত্যা দিবস পালিত
  • তারা ছিল ‘খাওয়া পার্টি’, দিয়ে যাচ্ছে শুধু আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনা

    তারা ছিল ‘খাওয়া পার্টি’, দিয়ে যাচ্ছে শুধু আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া আর যে দলগুলো বাংলাদেশে ক্ষমতায় গেছে, তারা দেশবাসীর জন্য কোনো কাজ করেনি।

    সোমবার (৪ জুলাই) নিজের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, “পঁচাত্তরের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা ক্ষমতায় এসেছে ‘খাওয়া পার্টি’ হিসেবে, দেওয়ার জন্য না। আর আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকে মানুষকে দিয়ে যাচ্ছে, মানুষের জন্য করে যাচ্ছে।”

    দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “জাতির পিতা কিন্তু নিজের জন্য দল করেন নাই বা নিজের ক্ষমতার লোভে দল করা বা নিজের অর্থ সম্পদ বানানোর জন্য করেন নাই। তিনি করেছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য।

    “কাজেই আমার যেটুকু আছে, আমি যে একটা গরিব মানুষকে দিতে পারি, আর সে যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, এটাই তো আমার স্বার্থকতা একটা নেতা হিসেবে। আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীকে সেই আদর্শ মেনেই চলতে হবে।”

    জাতির পিতাকে হত্যার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতায় গিয়েছিল, তাদের শাসনকালে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, “জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া সব আমলেই শুধু নির্যাতন। আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান কোন সময়টা না? শত নির্যাতনের মধ্য দিয়েও আওয়ামী লীগ সব সময় শক্তিশালী। বিশেষ করে আমাদের মাঠকর্মীরা সব সময় কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারাই কিন্তু পার্টিটাকে ধরে রাখে এই ।”

    পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সোমবারই প্রথম গোপালগঞ্জে পৈত্রিক ভিটায় যান শেখ হাসিনা। দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা হোসেন পুতুলকে নিয়ে সড়ক পথে পদ্মা সেতুর উপর দিয়েই যান তিনি।

    টুঙ্গীপাড়ায় পৌঁছে জাতির পিতার কবর জিয়ারত করেন শেখ হাসিনা। পরে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন।

    দক্ষিণ জনপদের উন্নয়নে পদ্মা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি এই সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে নানা বাধা মোকাবেলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    পদ্মা সেতু পাড়ি দেওয়ার এই যাত্রায় ছোট বোন শেখ রেহানাকেও আনার ইচ্ছা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “কারণ এই পদ্মা সেতু বানাতে গিয়ে আমাদের উপর যে অত্যাচার.. আপনারা চিন্তাও করতে পারবেন না। মিথ্যা একটা অভিযোগ এনেছিল।

    “আমার ছেলে-মেয়ে, রেহানার ছেলে, রেহানা থেকে শুরু করে আমার মন্ত্রী, সচিব মোশাররফ, আমাদের উপদেষ্টা মসিউর রহমান সাহেব থেকে শুরু করে এদের উপরে একেবারে জুলুম। মিথ্যা মামলা দেবে, তাদেরকে হয়রানি করবে।”

    নিজে কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি দুর্নীতি করব কীসের জন্য, কার জন্য?”

    নিজের দুই সন্তান এবং ছোট বোনের তিন সন্তান নিজেদের যোগ্যতায় নিজেরা জীবিকা নির্বাহ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা কোনোদিনই … আমি আজকে চার চার বার ক্ষমতায়…. কই কেউ তো আমাকে বলেনি আমায় এই চাকরি দাও, আমায় এই ব্যবসা দাও, এটা দাও, সেটা দাও। নিজেরা চাকরি করছে, নিজেরা পড়েছে, স্টুডেন্ট লোন নিয়েছে, একটা করে কাজ করেছে আবার চাকরি করছে। সেই টাকা শোধ দিচ্ছে আবার পড়েছে।”

    ছোট বোনকে নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “রেহানাও চাকরি করে খায়। বোন প্রধানমন্ত্রী দেখে একেবারে বোনের উপর কোনো চাপ দেবে, তাও তো করে না। কোনোদিন কোনো কথা বলে না। বাসে ঝুলে ঝুলে অফিস করে। তারপর সে নিজে কাজ করে খায়। ঘরের কাজ..সে ঘর ঝাড় দেওয়া, বাথরুম ধোয়া, কাপড় ধোয়া, সব নিজের করতে হয়। রেহানা নিজেই করে সব।

    “আমাদের এই আত্মমর্যাদা বোধটা আছে। কারও কাছে হাত পাতা, কারও মুখাপেক্ষী হওয়া না।”

    দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, “একটা স্বাধীন দেশকে কীভাবে উন্নত করতে হবে, তার জন্য সব কাজগুলো করে দিচ্ছি।”

    দেশের উন্নয়নে যে সমস্ত কাজ করে যাচ্ছে, সেগুলো যেন ভালো মতো হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল, এই চিন্তা করা যাবে না।”

    করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ বিশ্বের অর্থনীতিতে যে সঙ্কট নিয়ে এসেছে, তা মোকাবেলার কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখনও ভালো আছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি আমি আপ্রাণ যে আমরা ভালো থাকবো। কাজেই এখানেও সহযোগিতা করবেন সারা দেশবাসীকে।”

    দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কোনো এলাকায় যেন একটা মানুষও গরিব না থাকে, ভিক্ষা করে খেতে না হয়, কষ্ট না পায়। তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে।

    “আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতা-কর্মীর এটা মাথায় রাখতে হবে যে শুধু আমি খাব, আমি ভালো থাকব, আমি শান-শওকতে থাকব, আর আমার পাড়া-প্রতিবেশী খাবে না, এটা যেন না হয়।”

    সম্প্রতি সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রামসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যা দেখা দেওয়ায় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

    “সবাই এক যোগে কাজ করতে পেরেছি বলেই কিন্তু আজকে করোনা মোকাবেলা, বন্যা মোকাবেলাসহ যে কোনো অবস্থা আমরা মোকাবেলা করতে পারি।”

    দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে বিদ্যুতের অপচয় না করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। 


    এসএমএইচ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ