ঢাকা শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

Motobad news

জাতীয় কাউন্সিলের কথা ভাবছে না বিএনপি

জাতীয় কাউন্সিলের কথা ভাবছে না বিএনপি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। সেটি ছিল বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল। এরপর সাড়ে ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করতে পারেনি দলটি। যদিও বিএনপির গঠনতন্ত্রে তিন বছর পর পর জাতীয় কাউন্সিল করার বিধান রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস ও অসুস্থতা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাসিত জীবন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক পরিবেশ নিজেদের অনুকূলে না থাকায় গত তিন বছর বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও জাতীয় কাউন্সিল করতে পারেনি বিএনপি। আর এখন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ‘মাঠ গরমের’ মৌসুমে এসে জাতীয় কাউন্সিল করার কথা মাথায়ই আনছে না দলটি।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাদের ‘ভাবনায়’ নেই জাতীয় কাউন্সিল।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল করার কথা। সেই হিসেবে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ায় ২০১৯ সালের মার্চ মাসের আগেই সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বাধ্যবাধকতা ছিল বিএনপির। এই বাধ্যবাধকতার কথা মাথায় রেখেই ২০১৯ সালের জুনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিলের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।’ কিন্তু সেই ‘সর্বাত্মক প্রস্তুতি’ গত তিন বছরেও শেষ করতে পারেনি দলটি।

দলীয় সূত্র মতে, ওই সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা মিডিয়াতে কাউন্সিল সম্পর্কে নানা রকম বক্তব্য দিলেও কাউন্সিল করার মতো সাংগঠনিক প্রস্তুতি বিএনপির ছিল না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দলটির পক্ষে কোনো অবস্থাতেই জাতীয় কাউন্সিল করা সম্ভব হতো না। কারণ, দলীয় প্রধান হিসেবে কাউন্সিল ডাকার এখতিয়ার শুধু তারই। আর কারাগারে থেকে কাউন্সিল ডাকার ‍সুযোগ খালেদা জিয়ার ছিল না। সাময়িক মুক্তি পেয়ে বর্তমানে তিনি বাসায় অবস্থান করলেও ওই সুযোগ তার এখনো নেই।

ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর কয়েক ধাপে নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য মিলিয়ে প্রায় ৫৯৪ সদস্যের বিশাল কমিটি করে বিএনপি। তারপরও অনেকে পদ না পেয়ে পরবর্তী কাউন্সিলের জন্য অপেক্ষা শুরু করেন। কিন্তু গত সাড়ে ছয় বছরেও তাদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়নি। ১৯ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে এখনো পাঁচটি পদ ফাঁকা রয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ারের মৃত্যু এবং মাহবুবুর রহমানের অবসরজনিত কারণে ফাঁকা হওয়া পদগুলো এখনো পূরণ হয়নি।

এছাড়া মৃত্যু, বহিষ্কার এবং পদত্যাগজনিত কারণে ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, সহ-স্পাদক, নির্বাহী সদস্যের পদসহ বেশ কিছু পদ ফাঁকা রয়েছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে। এসব পদ পূরণ কাউন্সিলের আগে নয়- এমন সিদ্ধান্তই নিয়ে রেখেছে বিএনপি। অথচ সেই কাউন্সিলের কথা এখন মুখেই আনছে না দলটি।

অবশ্য কাউন্সিলের আগে ৮২টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি ঢেলে সাজাতে হবে বিএনপিকে। সেইসঙ্গে থানা ও পৌর কমিটি গঠন করতে হবে। কারণ, এসব কমিটির শীর্ষ নেতারা পদাধিকারবলে জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য হন। এদের ভোটেই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের নিয়ম রয়েছে। যদিও কাউন্সিলররা তাদের হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার দলের চেয়ারপারসনের ওপর ছেড়ে দিয়ে চলে যান।

দলীয় সূত্র মতে, রংপুর বিভাগে ১০টি, রাজশাহী বিভাগে ৯টি, খুলনা বিভাগে ১১টি, বরিশাল বিভাগে আটটি, ময়মনসিংহ বিভাগে সাতটি, ঢাকা বিভাগে ১১টি, ফরিদপুর বিভাগে ছয়টি, সিলেট বিভাগে পাঁচটি, কুমিল্লা বিভাগে পাঁচটি এবং চট্টগ্রামে বিভাগে ১০টিসহ মোট ৮২টি সাংগঠনিক জেলা রয়েছে বিএনপির। এই ৮২টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এই মুহূর্তে মাত্র ২৮টিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। বাকি ৫৪টি সাংগঠনিক জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি দলটি।

দলীয় সূত্র মতে, ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতাদের মধ্যে কাউন্সিল নিয়ে আগ্রহ অন্যদের চেয়ে একটু বেশি ছিল। তারা ভেবেছিলেন, দ্রুত আরেকটি কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলে তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পদে যেতে পারবেন। যদিও জাতীয় কাউন্সিল ছাড়াই দলের চেয়ারপারসন বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে যে কাউকে শূন্য পদে বসাতে পারেন।

জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্তমান মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত তিনি বছরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার ক্ষমতাবলে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে পদায়ন করেছেন। এছাড়া রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আব্দুল খালেক, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আবু সাইদকে পদায়ন করা হয়েছে।

তবে এভাবে শূন্যপদে পদায়নের চেয়ে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পক্ষে বিএনপির বড় একটি অংশ। কিন্তু খালেদা জিয়া অথবা তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে জাতীয় কাউন্সিলের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ কর্মযজ্ঞে হাত দেওয়ার কথা এই মুহূর্তে চিন্তাও করছে না দলটির শীর্ষ নেতারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই মুহূর্তে জাতীয় কাউন্সিলের কথা আমরা চিন্তাও করছি না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় কাউন্সিল করা একেবারেই সম্ভব না।’


এসএমএইচ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন