ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • নিম্নআয়ের পরিবারে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পাম অলিন কিনবে সরকার গলাচিপায় অভিভাবকহীন দুই শিশুর পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও  কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল পিরোজপুরে চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি  উদ্বোধনের দুই মাসেই বেহাল ৭৫ লাখের সড়ক, উঠছে পিচ-পাথর ট্রাফিক কার্যালয় পরিদর্শনে বিএমপি কমিশনার এসএসসির ফলে অসন্তোষ: ৪ লাখ শিক্ষার্থীর প্রায় ১৩ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জ গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ইন্টার ক্লাব স্পোর্টসফেস্ট ‘উল্লাস’-২০২৬ সিজন ২ সমন্বয় সভা  বরিশালে ঘরোয়া রেস্তোরাসহ চার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা 
  • কাল ২৭ নভেম্বর: কোকো ট্র্যাজেডির ১৩ বছর

    কাল ২৭ নভেম্বর: কোকো ট্র্যাজেডির ১৩ বছর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভোলার লালমোহন উপজেলাবাসীর জন্য এক বেদনার দিন ২৭ নভেম্বর। ২০০৯ সালের এই দিনে লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীতে ডুবে যায় এমভি কোকো-৪ লঞ্চ। ওই দুর্ঘটনায় মারা যান ৮১ জন। দুর্ঘটনায় স্বজনহারা মানুষের কান্না আজও থামেনি। দুর্ঘটনার পর ১৩ বছর পার হলেও বিচার পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হলেও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কারও খোঁজ-খবর নেয়নি। 

    তেরো বছর আগের সেই দুর্ঘটনায় নিহত ৮১ জনের মধ্যে ৪৫ জনই লালমোহনের। উপজেলাবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও এখনো ধারণক্ষমতার অধিক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে অধিকাংশ লঞ্চ। 

    লালমোহনের রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল ব্যাপারী বাড়ির মনোয়ারা বেগমের মেয়ে হোসনে আরা ও নাতনি লিমা এ লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা যায়। শনিবার সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ে ও নাতনির  কবরের পাশে কান্না করছেন মনোয়ারা বেগম। ১৩ বছরেও মেয়ের কথা ভুলতে পারেননি তিনি। মেয়ের স্মৃতি মনে করে এখনো কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মনোয়ারা বেগম জানান, ঈদ করতে ঢাকা থেকে লালমোহনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে লঞ্চডুবিতে মারা যায় তার মেয়ে ও ২ বছর বয়সী নাতিন। সেই দুর্বিষহ স্মৃতি আজও কাঁদায় তাঁকে।। 

    উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাকলাই বাড়ির শামসুন নাহার স্বামী, সন্তান, দেবরসহ একই বাড়ির ১৮ জন মিলে কোকো লঞ্চে করে রওনা হয়েছিল বাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছাতে পারেননি। লঞ্চডুবিতে নিহত হয় তাঁর মেয়ে সুরাইয়া (৭), দেবরের মেয়ে কবিতা (৩) ও দেবর সোহাগ (১৩)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শামসুন নাহার বলেন, ‘লঞ্চ দুর্ঘটনায় আমার ছোট সুরাইয়া (৭) মারা যায়। ৩ দিন পর লাশ লাশ পাওয়ায় যায়, মেয়ে হারানোর ব্যথা এখনো কাঁদায়।’ তিনি দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করেন। 
     
    একই বাড়ির সুফিয়া বেগম ও হাজেরা হারিয়েছেন তাঁদের সন্তানকে। তাঁরা বলেন, ‘ঢাকা থেকে ফেরার পথে লঞ্চ দুর্ঘটনায় আমাদের সন্তান মারা গিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’ 
     
    লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘লঞ্চ দুর্ঘটনার পর ২০০৯ সালের ৩০ নভেম্বর লালমোহন থানায় কোকো লঞ্চের চালক ও মাস্টারসহ  ৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১১ সালে পুলিশ ওই মামলার চার্জশিট দিয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন।’ 

    লালমোহনের উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘লঞ্চ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এত মানুষের প্রাণ গেছে। কিন্তু মালিকপক্ষ কারও খোঁজ খবর নেয়নি। তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। আমরা ঘটনার বিচার চাই।’   

    উল্লেখ্য, ঈদে ঘরমুখি যাত্রী নিয়ে ২০০৯ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহনের উদ্দেশে ছেড়ে আসা লঞ্চটি রাতে নাজিরপুর ঘাটের কাছে ডুবে যায়। এতে লালমোহনের ৪৫ জন, চরফ্যাশনের ৩১ জন, তজুমদ্দিনের ২ ও দৌলতখান উপজেলার ৩ জনসহ মোট ৮১ জন মারা যান। 


    এএজে
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ