পার্বত্য শান্তিচুক্তির রজতজয়ন্তী আজ, বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন

পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৫ বছর আজ (শুক্রবার)। ১৯৯৭ সালের এই দিনে (২ ডিসেম্বর) তৎকালীন সরকারের সাথে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির সাথে ঐতিহাসিক এই চুক্তি সই হয়েছিল। সরকারের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির আহবায়ক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও জনসংহতি সমিতি- জেএসএস সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা ঐতিহাসিক এই চুক্তিতে সই করেছিলেন।
এরপর খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে বিপুলসংখ্যক সহযোগী নিয়ে অস্ত্র সমর্পণের মধ্য দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন শান্তিবাহিনীর শীর্ষ গেরিলা নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা। পরে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেয় সরকার।
কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধান করার কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাসিন্দাদের।
পাহাড়ি বাসিন্দাদের দাবি, ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তি চুক্তির সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক ধারাগুলো সংশোধন করতে হবে। এ দাবি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ ও মহিলা পরিষদ নামে দু’টি সংগঠন।
এসময় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চুক্তিতেই এমন কিছু ধারা সংযোজিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত বহু আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। একই সাথে বৈষম্যমূলক ও সা¤প্রদায়িক।
তাই পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য ২৬টি জাতীয় আইন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট ১২টি আইনসহ মোট ৩৮টি আইন সংশোধনের দাবি তোলেন তারা। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি হাবীব আজম।
এদিকে, ২৫ বছরেও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে গত বুধবার বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৪১ বিশিষ্ট নাগরিক। তারা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোসহ পুরোপুরি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি হয়নি। এসব ধারার বাস্তবায়ন কাজ নানা অজুহাতে বিলম্ব করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে সই করেছেন- মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল, বেসরকারি সংস্থা-নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা প্রমুখ।
অন্যদিকে, ঐতিহাসিক এ দিনটি পালনে আজ শুক্রবার বিকেল তিনটায় শহরে শোভাযাত্রা ও সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বরিশাল জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগ। বরিশাল ফজলুল হক এভিনিউ ও সিটি করপোরেশনের সামনে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তাই ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তির বিভিন্ন ছবি, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দিয়ে সাজানো হয়েছে গোটা বরিশাল শহর।
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই চুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দক্ষিণাঞ্চলের রূপকার আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এই চুক্তিতে সই করায় প্রতি বছর এ শহরে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। শুক্রবারের এ কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নিবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এসএমএইচ