জ্বালানি সংকটের মধ্যেই মঠবাড়িয়ায় চড়া দামে তেল বিক্রি

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা রাতের আধারে বাড়ির ভিতরে বসে চড়া দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছে বলে অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য কারনে প্রশাসন নীরব।
দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ অনিয়ম চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নীরবতায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে একটি মাত্র পেট্রোল পাম্প রয়েছে। যেখানে বাইকে দিনে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেয়া হয়। তাও সব সময় পাওয়া যায় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাইকারি ও খুচরা (দোকানে) বিক্রেতারা পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করছে। এতে করে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে পরিবহণ খাতসহ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসার মো, ইসা জানান, তেল সংকটের কারনে এক সপ্তাহ ধরে বাইক পড়ে আছে। কোধাও তেল পাচ্ছিনা। তেলের সংকটের কারনে ৭ কিলো দূর থেকে অটোতে করে অফিসে আসতে হয়। গুণতে হচ্ছে বারতি টাকা।
ভুক্তভোগিরা জানান, ব্যবসায়ীরা তেল নেই বলে জানালেও রাতের আঁধারে বা গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে দক্ষিণবন্দর আমিরুল ওয়েল সাপ্লাই মঠবাড়িয়া কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন প্রশাসন এসে নীরবে চলে যায় নিশ্চয়ই এর ভিতর কোন লিয়াজুর ব্যাপার রয়েছে। ভোক্তা অধিকার ও উপজেলা প্রশাসনকে অনেকবার জানানোর পরেও মজুদ থাকার তেলের বিষয়ে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
এ বিষয়ে মঠবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, সারা দেশের ন্যায় মঠবাড়িয়াতেও পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিয়োগ পাওয়া গেছে। শিঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া তেল সংকট না কাটা পর্যন্ত খুচরা ব্যবসায়ীরা জিপো থেকে যাতে পেট্রোল ও অকটেন কিনতে না পারে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়ে।
তিনি আরও বলেন পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার সার্বক্ষনিক দেখ ভাল করছেন। সাধারণ যানবাহন ও পরিবহন চালকদের পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করার অনুরোধ রইলো।
এইচকেআর