গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় খরচ কমাতে মাটির চুলায় রান্না

বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় বসবাস করেন গৃহিণী নাসিমা বেগম। গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ায় খরচ কমাতে এখন তিনি মাটির চুলায় রান্না করছেন। শুধু নাসিমা নন তাঁর মতো নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সরে এসে চুলায় রান্না করছেন।
গৃহিণী নাসিমা বেগম বলেন, গ্যাস দিয়ে রান্না করতাম। গ্যাস সিলিন্ডারের দামও হঠাৎ বেড়ে গেছে। তাই খরচ কমাতে বাধ্য হয়ে এখন মাটির চুলায় রান্না করছি। সরকারের কাছে গ্যাসের দাম কমানোর দাবি জানাই।
একই এলাকার চাকরিজীবী (অবসার প্রাপ্ত) খোকন হোসেন বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ায় মানুষ হিমশিম খায়। কিভাবে গ্যাস কিনবে। কেনাতো বাহিরে। সরকারের কাছে গ্যাসের দাম কমানোর দাবী জানাই।
গতকাল শুক্রবার নরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গৃহিণীরা বাড়ির আঙিনায় বা পাকা বাড়ির মেঝেতে মাটির চুলা পেতে রান্না করছেন।
সাগরদী এলাকার আছালত খান সড়কের বাসিন্দা সিমা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, আমাদের ছোট সংসার। দিন আনি দিন খাই। সবসময় গ্যাসে রান্না করতাম। কিন্তু গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন চুলায় রান্না করি। সরকারের কাছ আবেদন যাতে গ্যাসের দাম কমিয়ে দেয়।
আরেক গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার বলেন, যেভাবে গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে গ্যাস কেনা সম্ভব না। সরকার যেন গ্যাস কমানোর দিকে সুদৃষ্টি দেন।
নগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়। মুন্না ষ্টোরের ব্যবসায়ী মো. হারুন বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের দাম বাড়তি হওয়ায় বিক্রি করছিনা।
এদিকে বাবুল হোসেন নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, গতকাল ১৯০০ টাকায় গ্যাস কিনেছি। যে বেচাকেনা আমরা থাকতে পারছিনা।
রিকশা চালক শাওন বলেন, রিকশা চালিয়ে ৩০০ টাকা জমা দিতে হয়। ১৯০০ টাকা গ্যাসের দাম হয়েছে। তাই চুলায় রান্না করি। আবার লাকরির দাম বাড়ছে। এখন কি করবো। এই টা কি দেশ।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) এপ্রিল মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছেন। এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ৬১.৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এইচকেআর