বেড়েছে খোলা ভোজ্যতেলের দাম, রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি

বরিশালে ঈদের পর থেকে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি ও দেশি মুরগি। এছাড়া বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম না বাড়লেও খোলা সয়াবিন ও পামতেলের দাম বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় সবজি, মাছ, মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী।
ক্রেতারা বলছেন, এখন যে অবস্থায় আছে সেটিও থাকলে কোনোমতে বাঁচা যায়। জ্বালানি তেলের সংকট বাড়ছে। এর প্রভাব যদি বাজারে আসতে থাকে তবে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তদের জীবন চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর থেকে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পণ্য আনতে খরচ বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নগরীর রূপাতলী, বাংলা বাজার, চৌমাথা বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।
দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। মাংসের বাজারের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। গরুর মাংস যা এক সপ্তাহ আগেও ৭৫০ টাকায় মিলতো, ঈদের সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা।
এদিকে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে বেড়ে এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অস্বাভাবিক বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, আর দেশি মুরগি ৮০০ টাকা ছুঁয়েছে। ঈদের আগে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। আর দেশি মুরগির ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা।
দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরগি বিক্রিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর রূপাতলী বাজারের বিক্রেতা মনির হাওলাদার বলেন, দাম বাড়ার কারণে বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তারপরও সরবরাহ কম। মূলত গাড়িভাড়া বেড়ে এ সমস্যা হয়েছে।
আরেক দোকানি মাসুদ বিশ্বাস বলেন, পর্যাপ্ত মুরগি বাজারে আসছে না, আবার আগের মতো গাড়িও আসছে না। বিশেষ করে সোনালি ও দেশি মুরগির সরবরাহ অনেক কমে গেছে।
এদিকে বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেই খোলা সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকায় কেনা গেছে। খোলা পামতেলের দামও এক সপ্তাহে লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে।
তবে বোতলজাতে তেলের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য লিটার ১৯৫ টাকাই রয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন বোতলজাত তেলের সরবরাহ সংকট আছে বাজারে। অন্যদিকে, সবজির বাজারে কিছু কিছু পণ্যের দাম আগের মতোই থাকলেও বেড়েছে কোনো কোনোটির।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দাম আগের মতো কম রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা ও পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ১২০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, শিম ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফুলকপির পিস মিলছে ৮০ টাকায়।
এছাড়া মাছের বাজারে দেখা গেছে, রুই, মৃগেল ও কাতল মাছ ওজন ভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাংলা বাজারে নয়ন হোসেন নামে সবজি বিক্রেতা জানান, সবজির বাজার চড়া না। দাম উঠানামার মধ্যে রয়েছে। সরবরাহ খারাপ না। যে কারণে একবারে লাফ দিয়ে কোনোটার দাম বাড়েনি। ১০ টাকা ২০ টাকা কিছুটাতে বেড়েছে। আবার কিছুটা একটু কমতির দিকে।
বাজারে ক্রেতা লিটন মিয়া বলেন, সবজির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। গ্যাসের দাম একলাফে প্রায় ৪০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এভাবে সব জিনিসের দাম বেড়ে গেলে আমাদের মতো পরিবারের চাপ অনেক বাড়বে।
বাজার করতে আসা মফিজুর রহমান বলেন, তেলের দামের প্রভাবে বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাবে। আমরা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন, আমাদের ওপর কী প্রভাব আসবে কল্পনাও করা যায় না। সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, তারা যেন বাজারের দিকে নজর ঠিকমতো রাখে।
এইচকেআর