পলিথিন ও খেজুর পাতার ছাউনিতে শিশুদের নিয়ে বসবাস

আকাশে মেঘ জমলেই বুকটা কেঁপে ওঠে নির্মল ব্যাপারীর। ছোট্ট দুই শিশুকে নিয়ে কোথায় ঠাঁই নেবেন তিনি? নিজের ঘর বলতে যা আছে, তাকে ঠিক ঘর বলা চলে না। পলিথিন আর খেজুর পাতার এক জরাজীর্ণ ছাউনি। বৃষ্টি এলেই ভিজিয়ে দেয় তাদের বিছানা। চারদিকে যখন ডিজিটাল উন্নয়নের ঝিলিক, তখন এই পরিবারের রাত কাটে অন্ধকারে। ভাঙা ঝুপড়িই তাদের একমাত্র আশ্রয়।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোলাবালিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামের নির্মল ব্যাপারী কয়েক বছর আগেও ছিলেন কর্মক্ষম। কিন্তু অন্যের বাড়িতে খড়ের গাদায় কাজ করতে গিয়ে ওপর থেকে পড়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পান। সেই দুর্ঘটনার পর থেকেই ভারী কাজ করার ক্ষমতা হারান তিনি। বর্তমানে বসে বসে বাঁশের ঝুড়ি বানিয়ে সামান্য আয় করেন নির্মল। সেই আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলহাজ মোর্শেদ খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই জরাজীর্ণ একটি ঘরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন তিনি। বড় মেয়ে মধুমিতার বয়স ৫ বছর আর ছোট মেয়ে নন্দিনীর বয়স মাত্র ৯ মাস। ঘরটির অবস্থা খুবই নাজুক। বৃষ্টি নামলেই ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। পলিথিন আর সিমেন্টের বস্তা দিয়ে কোনোভাবে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেন তারা। ঘরে নেই বিদ্যুৎ। ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘর ধসে পড়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে পুরো পরিবারের।
স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে বা কোনো বিত্তবান ব্যক্তি যদি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তবেই হয়তো এই অসহায় পরিবারটি অন্তত মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই পাবে।
নির্মল ব্যাপারী বলেন, ‘আগে খাটতে পারতাম, এহন পারি না। মাজায় (কোমর) চোট পাওয়ার পর থেইকা জীবনটা থমকে গেছে। পোলাপান লইয়া কই যামু? বৃষ্টি আইলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। বিছানা ও মেঝে ভিজে যায়, রাইতে অন্ধকারের মধ্যে থাহি।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা বা আবাসন প্রকল্পের ঘর এই বৃদ্ধ দম্পতির ভাগ্যে জোটেনি। সামান্য সহায়তা পেলে তাদের জীবনে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ছোট দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করা জরুরি।
ইউপি সদস্য খালিদ হাসান বাদল বলেন, নির্মল ব্যাপারী খুবই অসহায়। তার বসবাসের ঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি সহায়তা পেলে তিনি একটি নিরাপদ ঘরে থাকতে পারবেন। এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।