ঢাকা শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

Motobad news

প্রেমিককে পেতে ধর্মত্যাগ ও বিয়ে, প্রেমিক কারাগারে

প্রেমিককে পেতে ধর্মত্যাগ ও বিয়ে, প্রেমিক কারাগারে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

প্রেম মানে না কোনো শাসন, মানে না কোনো বাধা। সেই শাশ্বত প্রেমের টানেই পরিবারের রক্তচক্ষু আর ধর্মীয় বিভেদ উপেক্ষা করে ঘর ছেড়েছিলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জের এক যুগল। মন্দির থেকে মসজিদ, নতুন নাম ও নতুন পরিচয়ে শুরু করেছিলেন সংসার। কিন্তু স্বপ্নের সেই বাসরঘর আর পূর্ণতা পেল না। বিয়ের আমেজ কাটার আগেই পুলিশি অভিযানে ইতি ঘটল নবদম্পতির মধুর মুহূর্তের। প্রেমিক এখন শ্রীঘরে, আর প্রেমিকা রয়েছেন পুলিশি হেফাজতে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নে ঘটা এই প্রেমকাহিনি এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে আলোচনার ঝড়।

ঘটনার সূত্রপাত উপজেলার রাজাপুর গ্রাম থেকে। বশির সরদারের ছেলে মো. তামিম হাসানের সঙ্গে প্রতিবেশী ফলাঘর গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র সাহার মেয়ে প্রিয়ন্তী রানী সাহার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ভিন্ন ধর্ম হওয়ায় পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেবে না, এমন শঙ্কা থেকে গত ৩ মে দুজনেই আত্মগোপনে চলে যান।

এরপর প্রিয়ন্তী রানী সাহা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখেন জান্নাতি ইসলাম। আদালতের হলফনামা ও ধর্মীয় বিধান মেনে ২ লক্ষ টাকা দেনমোহরে কাজীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে।

এদিকে মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর প্রিয়ন্তীর পরিবার বাকেরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত বৃহস্পতিবার ওই যুগলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী জানান, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করেছেন। তবে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে তামিমের বিরুদ্ধে 'অপহরণ ও ধর্ষণের' অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তামিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে, যার ঠিকানা হয় জেলহাজত। অন্যদিকে, শারীরিক পরীক্ষার জন্য তরুণীকে পাঠানো হয় হাসপাতালে।

তামিমের পিতা বশির সরদার আক্ষেপ করে বলেন, ছেলের সম্পর্কের বিষয়টি আমি আগেভাগেই মেয়ের পরিবারকে জানিয়েছিলাম। চেয়েছিলাম সামাজিক মিমাংসা। কিন্তু তারা এখন আমার ছেলের জীবন ধ্বংস করতে অপহরণ ও ধর্ষণের মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র।

অন্যদিকে তরুণীর পরিবার জানায়, তাদের মেয়েকে 'প্রেমের ফাঁদে' ফেলে কৌশলে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি ভালোবাসা নয় বরং একটি পরিকল্পিত অপরাধ।

বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আদিল হোসেন জানান, জিডির ভিত্তিতে আমরা তরুণ-তরুণীকে উদ্ধার করেছি। যেহেতু তরুণীর পরিবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে, তাই আমরা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছি। ছেলেকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এখন আদালতই পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেবেন।

এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে বইছে চাঞ্চল্য। কেউ এই ঘটনাকে প্রেমের জয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সমালোচনা করছেন। তবে আইনের মারপ্যাঁচে এক জোড়া হৃদয়ের এই পরিণতি স্থানীয়দের মনে অনেক প্রশ্ন রেখে গেছে।
 

 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন