ঢাকা রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

Motobad news

পাঁচ দিন পানি নে‍ই রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, রোগীদের ভোগান্তি

পাঁচ দিন পানি নে‍ই রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, রোগীদের ভোগান্তি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা পাঁচ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনেরা। 

গভীর নলকূপের ভূগর্ভস্থ সঞ্চালন পাইপে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পানিসংকটের কারণে হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৫৫ বছর আগে হাসপাতালে স্থাপিত গভীর নলকূপে পাম্প বসানো হয়। সেখান থেকেই রোগীদের জন্য পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পাঁচ দিন আগে গভীর নলকূপের এক হাজার ফুট গভীরে থাকা লোহার পাইপ ও হাউজিংয়ে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার সকালে সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে হামের রোগীসহ ৮৮ জন রোগী ভর্তি আছে। শৌচাগারে পানি না থাকায় হাসপাতাল থেকে দূরের খালের পানি এনে শৌচাগারে ব্যবহার করতে হচ্ছে। 

এ ছাড়া হাসপাতাল কোয়ার্টারে বসবাস করা চিকিৎসক-নার্সসহ ৯টি পরিবার তীব্র পানিসংকটে পড়েছে।

অনেকেই অভিযোগ করেন, চার দিন ধরে গোসল, শৌচাগার ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাজাপুর উপজেলার কানুদাসকাঠি গ্রামের নাসরিন আক্তার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দেড় বছরের শিশুসন্তান শফিউল্লাহকে গত বুধবার হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে পানি না থাকায় তিনি সন্তানের চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি চলে যেতে চাচ্ছেন।

উপজেলার গালুয়া গ্রামের ফরিদা বেগম বলেন, পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পানি না থাকায় গোসল করতে পারছি না। খাল থেকে পানি এনে শৌচাগারে যেতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গভীর নলকূপে সমস্যা ছিল। নতুন পানির পাম্প বসিয়েও সমাধান হয়নি। বরং দুটি পাম্প পুড়ে গেছে। বর্তমানে পাইপ পরিষ্কারের কাজ চলছে। এতে সমাধান না হলে বিকল্পভাবে পুকুর থেকে অস্থায়ী পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন করে গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি সরবরাহ চালু করতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। এর সঙ্গে আর্থিক অনুমোদন ও বরাদ্দের বিষয়ও জড়িত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছেন। সিভিল সার্জন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হাসপাতালে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন