ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের কানুয়া গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে মো.শাহাদাৎ হোসেন বাপ্পি (২৭) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
নিহত বাপ্পি উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসের কাজের জন্য জর্ডানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু বাপ্পি ও তার পরিবার এতে রাজি ছিলেন না। স্ত্রী প্রবাসে যাওয়ার পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারনে মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র তৈরির অজুহাতে মীম প্রায়ই ঢাকায় যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন।
নিহতর পরিবারের দাবি, গত ১১ জুন মীম বাপ্পিকে না জানিয়ে পুনরায় ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সাথে রাগারাগি করেন। একপর্যায়ে ভিডিও কল দিলে মীম যে হোটেল রুমে ছিলেন, সেখানে এক পরপুরুষকে দেখতে পায় বাপ্পি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। পরবর্তীতে গত ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মোবাইল ফোনে স্বামী বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেন।
নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম সাংবাদিকদের জানান, ১৫ জুন (সোমবার) দিবাগত রাতে খাবার শেষ করে তাদের মধ্যে বরাবরের মতোই কথাকাটাকাটি হয়। এরপর রাত ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভাঙলে তিনি বাপ্পিকে খাটে না দেখে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের আড়ার (কাজপাইর) সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন। স্ত্রী মীমের কথা অনুযায়ী তিনি একাই ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখেন এবং পরে বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন।
তবে এ বিষয়ে নিহত বাপ্পির মা রুবী বেগম কাছে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে এখন গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত এবং একাধিক পুরুষের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগেও সে ঢাকায় অন্য পুরুষের সাথে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে একপর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে । এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
এইচকেআর