ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয়লেন, বরিশাল-ভোলা সেতু, ভোলার গ্যাস, ঝালকাঠির পেয়ারার হাট, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি অন্যতম

বরিশালে স্বাগত প্রধানমন্ত্রী, বাজেটে বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলবাসীর যত দাবি

বরিশালে স্বাগত প্রধানমন্ত্রী, বাজেটে বঞ্চিত দক্ষিণাঞ্চলবাসীর যত দাবি
ছবি: সংগৃহীত 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

নতুন সরকারের প্রথম বাটেজে বরাদ্দ বঞ্চিত বরিশাল জেলা সোমবার সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বরিশাল এবং গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ডের সুফলভোগীদের সাথে মতবিনিময় এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক সভা করবেন। 

তার এই সফর ঘিরে বরিশালবাসীর মধ্যে যেমন উৎসব-উদ্দিনপনা বিরাজ করছে; তেমনি আশায় বুক বেধেছেন সবাই।

তাদের প্রত্যাশা সরকারি এই সফরের মাধ্যমে অবহেলিত বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের ঘোষণা দিবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ করে তিনটি মেগা প্রকল্প- ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা ছয়লেন মহাসড়ক, বরিশাল-ভোলা সেতু, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইপিজেড বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করছেন বরিশালবাসী। সেই সাথে নদীমাত্রিক বরিশালকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের দাবি তাদের।

জানাগেছে, বরিশাল বিভাগে মেগা প্রকল্প এবং বড় বড় উন্নয়ন বাস্তবায়ন হয়েছে তৎকালিন বিএনপি সরকারের হাত ধরে। বরিশাল বিভাগ ঘোষণা, সিটি করপোরেশন গঠন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, শিক্ষাবোর্ড স্থাপন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবনা, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন সরকার।

তবে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধিন বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেট হতাশ করে তোলে বরিশালবাসীকে। বরিশাল বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ভোটে বিএনপির বিজয়ের পরও এই অঞ্চলে উন্নয়ন বরাদ্দ না থাকায় ক্ষুব্ধ হন তারা। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফর ঘিরে এবার প্রতিদানের আশা করছেন দক্ষিণাঞ্চলবাসী।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল জেলার সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী বরিশালে আসছেন এটা আনন্দের ব্যাপার। তাঁর কাছে আমাদের উন্নয়ন দাবির কথা তুলে ধরতে হবে।

বিশেষ করে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয়লেন মহাসড়ক বাস্তবায়নের দাবি বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন হবে, তেমনি দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও কমে আসবে।

তাছাড়া বরিশাল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এই স্টেডিয়াম যাতে দ্রুত চালু করা হয় এবং বিপিএলসহ অন্যান্য খেলার ভেন্যুগুলো যাতে এখানে দেওয়া হয় সেই দাবি থাকবে আমাদের।

তিনি বলেন, পটুয়াখালীতে একটি ইপিজেড হচ্ছে। বরিশালেও আরেকটি ইপিজেড করা হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। অন্যান্য জেলার থেকে বরিশালে বেকার সংখ্যা বেশি। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবি তুলে ধরলে অবশ্যই তিনি এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন এবং সমস্যাগুলোও দ্রুত সমাধান হবে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুধু বরিশাল জেলা নয়- গোটা বিভাগের উন্নয়নে কিছু দাবি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবায়দুল হক চান।

তিনি বলেন, প্রধামন্ত্রীর সরকারি সফরের পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে আলোচনার ফাঁকে দু-চারটা উন্নয়নের দাবি আমরা তুলতেই পারি এবং আমি সেটা করবো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ছয়লেন মহাসড়ক চাই। এটা বরিশালবাসীর প্রাণের দাবি। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলে সরবরাহ করা, ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে বরিশাল-ভোলাবাসীর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, পায়রা বন্দরকে স্বচ্ছল রাখার দাবি আমাদের।

তিনি বলেন, পটুয়াখালীতে আমাদের দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার প্রয়োজন হয়। কিন্তু কয়লাবাহী বড় বড় জাহাজগুলো বন্দরে ভিরতে পারে না। ছোট জাহাজে করে কয়লা এনে তার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফালানো হয়। এতে বাড়তি কেরিং খরচ এবং চুরিও হচ্ছে। পায়রা বন্দরে নদীখনন করে স্বচল রাখলে সেই খরচনা আর লাগবে না। সহজেই বড় বড় জাহাজ বন্দরে ভিরতে পারবে।

চান বলেন, বরিশালে একটি এয়ারপোর্ট রয়েছে। যেটা নানান সমস্যায় জর্জরিত। আমাদের দাবি থাকবে বরিশাল এয়ারপোর্টকে আরও বড় এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের করে গেড়ে তোলা। পাশাপাশি নদী, সড়ক এবং আকাশ পথের পাশাপাশি বরিশালবাসীর রেল লাইন বাস্তবায়নের স্বপ্ন পুরণের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ছয়লেন, ভোলা-বরিশাল সেতু এবং ভোলার গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি বরিশালকে আধুনিক শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি আমাদের। পাশাপাশি ঝালকাঠির পেয়ারা বাগানকে কৃষি শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি এবং সেখানকার অবকাঠামো উন্নয়ন করা জরুরি।

তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সব থেকে বড় সমস্যা স্বাস্থ্যসেবা খাত। এখানে রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়লেও আধুনিক চিকিৎসার অভাব যেমন রয়েছে; তেমনি বিশেষায়িত হাসপাতালও নেই। আমরা চাই চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন।

তিনি বলেন, বরিশালে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও কিডনি ভবনের নির্মাণ কাজ দীর্ঘ বছর ধরে চলছে। এটিসহ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করতে হবে। পাশাপাশি জেনারেল হাসপাতালকে আড়াইশ শয্যায় উন্নীত করার এবং বরিশালে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার দাবি আমাদের।

বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কেভিনেট মিটিংয়ে পাস হওয়া বরিশাল বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তবে এরপর গত ১৬ বছর যারা ছিল তারা বরিশাল বিভাগে কোন উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেনি। এ কারণেই বাজেটে মেগো প্রকল্পগুলোতে সুস্পষ্ট বরাদ্দ আসেনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বরিশালে আসছেন। এটি তাঁর সরকারি সফর। আমরা সংসদেও ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয়লেন মহাসড়ক, বরিশাল-ভোলা সেতু, ভোলার গ্যাস পাইপলানে সরবরাহ করা, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন দাবি তুলেছি। এই দাবিগুলো বরিশালবাসীর দাবি। পুনরায় দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা তুলে ধরতে চাই। আমরা আশাবাদি বরিশালবাসীর দাবির প্রতি তিনি গুরুত্ব দিবেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সকলে মিলে আমাদের বরিশালের উন্নয়নের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবো।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ