ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বিএম কলেজে হোস্টেল সংকটে নেই কোন উদ্যোগ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা  বরিশালে ৩ মাস ধরে পাসপোর্ট অফিসে পড়ে আছে ৮০০ পাসপোর্ট গৌরনদীতে ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেতুর স্লাব ভেঙে পড়ার ঘটনায় তদন্তে দুই টিম সাবেক রাষ্ট্রপতি হামিদ-সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ উজিরপুরে যুবদলের সম্পাদকসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মেধাবৃত্তি প্রদান জুলাই আন্দোলনে নিহত মামুনের পরিবারের মানবতার জীবনযাপন লন্ডনে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করলেন লালমোহনের কৃতি সন্তান মনিরুল ইসলাম ৯৮ মামলায় ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম, আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চাই বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
  • বিএম কলেজে হোস্টেল সংকটে নেই কোন উদ্যোগ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা 

     বিএম কলেজে হোস্টেল সংকটে নেই কোন উদ্যোগ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা 
    ফাইল ছবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। ১৩৭ বছরের পুরোনো এই বিদ্যাপীঠে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও আবাসন সুবিধা রয়েছে মাত্র ৬টি হোস্টেলে। এর মধ্যে ৪টি ছাত্র হোস্টেল এবং ২টি ছাত্রী হোস্টেল। আসনসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী হোস্টেলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই উচ্চ ভাড়ায় মেস কিংবা বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের এই সংকট কবে কাটবে—এ প্রশ্ন এখন শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে।

    তবে শুধু হোস্টেলে সিট না পাওয়ার অভিযোগই নয়, যারা সিট পেয়েছেন তাদের অভিযোগও কম নয়। বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে অনেক ভবনই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, কোথাও স্যাঁতসেঁতে কক্ষ। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকায় একটি রুমে ৭ থেকে ৮ জন পর্যন্ত গাদাগাদি করে বসবাস করছেন।

    ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, হলের একটি সিট না পাওয়ায় আমাকে মেসে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি আর্থিক চাপের পাশাপাশি পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত নতুন হল নির্মাণ ও আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি জানাই।

    হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ ইয়ামিন বলেন, মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের অনেক অংশই জরাজীর্ণ। একই কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় পড়াশোনার পরিবেশ নেই, খাওয়ার পানির সংকটও রয়েছে। এছাড়া হলের সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। দ্রুত ভবন সংস্কার, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার (ছদ্মনাম) বলেন, ছাত্রীদের জন্য মাত্র দুটি হোস্টেল। আসনসংখ্যা খুবই সীমিত। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে মেসে থাকতে বাধ্য হন। যারা হোস্টেলে আছি, তাদেরও পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নিয়মিত সমস্যায় পড়তে হয়।

    এ বিষয়ে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে দুটি প্রকল্প ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যমান হোস্টেলগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কারের বিষয় রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

    দীর্ঘ ১৩৭ বছরের ইতিহাসে অসংখ্য গুণীজনের জন্ম দেওয়া সরকারি ব্রজমোহন কলেজে আধুনিক ও পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই হোস্টেল সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ