চার দফা দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া সেতুর ওপর যাত্রীবাহী বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে যাত্রী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় চার দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এর আগে দুপুর সোয়া ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসি বাস ও থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে একযাত্রী নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। নিহত রিফাত (২০) বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এছাড়া আহতদের মধ্যে যাত্রী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত (২২), বাকেরগঞ্জের আসাদুল (৫০), নিহত রিফাতের চাচাতো ভাই সিফাত (৩০) ও মামুন রেজা (৩৫) এবং আরেক জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাতকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. জুবায়ের জানান, বরিশাল থেকে কুয়াকাটার দিকে যাচ্ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) একটি যাত্রীবাহী বাস। একইসময় বিপরিত দিক থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল যাত্রীবাহী থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্রা)। এসময় বাসটি দপদপিয়া সেতুর ঢালে নামার সময় থ্রি-হুইলারের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে থ্রি-হুইলারটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় চালকসহ থ্রি-হুইলারে থাকা ৯ জন যাত্রীর মধ্যে ছয়জন গুরুতর আহত হন।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. আবিদ জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রিফাত নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ্ আলম জানান, দুর্ঘটনার ফলে দপদপিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে বাস ও থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে যাত্রী নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় রাতেই চার দফা দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কের বেহাল অবস্থা এবং যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার দাবি জানানো হলেও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কারসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. রাজিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কের বেহাল দশা। বিভিন্ন মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এরই কারণে আজ সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা যে চারটি দাবি জানিয়েছি, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।আরেক শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, রাস্তায় রক্ত না ঝরলে কোনো সমাধান হয় না। আমরা যে চারটি দাবি উত্থাপন করেছি, সেগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন আর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করবে। পাশাপাশি রূপাতলী থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চার দফা দাবি হলো- আহত শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে পিচ ঢালাই করতে হবে এবং বিশেষ করে দপদপিয়া সেতুর সড়ক সংস্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
এইচকেআর