ঢাকা রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news

ওমান উপকূলে ছড়িয়ে পড়েছে তেল, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ওমান উপকূলে ছড়িয়ে পড়েছে তেল, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ওমানের উপকূলের কাছে দুর্ঘটনার শিকার একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া বিপুল পরিমাণ তেল দেশটির মূল ভূখণ্ডে পৌঁছেছে। এতে মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সৈকত দূষিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশ কর্তৃপক্ষ বুধবার জানায়, গত জুনে ওমানের উপকূলের কাছে ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের ট্যাংকারটি থেকে বের হওয়া তেল রাস মাদরাকাহ এলাকার সৈকতে পৌঁছেছে। এতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উপকূল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওমানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলেও তেল পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে ওই এলাকার ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার উপকূল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক বিবৃতিতে ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানায়, দূষণ পর্যবেক্ষণ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিশেষজ্ঞ দলগুলো কাজ করছে। পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ওমানের কর্তৃপক্ষ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিল, সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া তেলের স্তর প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। এর বড় অংশ হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জে সামুদ্রিক কচ্ছপসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য গত বছর একটি সামুদ্রিক সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তবে গ্রিনপিসসহ পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, ওমানের কর্তৃপক্ষ যে পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়েছে, প্রকৃত দূষণের পরিমাণ তার চেয়ে অনেক বেশি।

জুন থেকে অচল জাহাজ
‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ গত ৮ জুন থেকে ওমানের আল হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে অচল অবস্থায় রয়েছে। ওই সময় জাহাজটির নাবিকেরা একটি বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারগুলো জানিয়েছে, ক্যামেরুনের পতাকায় সর্বশেষ চলাচল করা এই জাহাজটি রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ। ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটির তেল পরিবহনের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

২০০১ সালে নির্মিত ট্যাংকারটি বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউক্রেনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

ওপেন সোর্স ডাটাবেস ওপেনস্যাংশনসের তথ্য অনুযায়ী, চীনে অবস্থিত রেন্টুর শিপম্যানেজমেন্ট জাহাজটির মালিক এবং ভিলার শিপম্যানেজমেন্ট এর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত।

‘বড় ধরনের তেল বিপর্যয়’ নিয়ে সতর্কতা
তেল ছড়িয়ে পড়ায় ওমানের উপকূল ও সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

গত সপ্তাহে গ্রিনপিস সতর্ক করে বলেছিল, দ্রুত তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এটি ‘নজিরবিহীন তেল বিপর্যয়ে’ পরিণত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির তেল ছড়িয়ে পড়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ডি’এলিয়া বলেন, ‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’তে থাকা আনুমানিক ৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল একটি বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।

আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, এই তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে।

ডি’এলিয়ার মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উন্নত দেশে তেল দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত ‘দূষণকারীই ক্ষতিপূরণ দেবে’ নীতি মেনে চলে না।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত যে পক্ষের কারণে দূষণ ঘটে, সেই পক্ষকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ বহন করতে হয়। কিন্তু এই ঘটনায় দায়ী পক্ষ নির্ধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন