বরিশালে রাতে হাতেম আলী কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অধ্যক্ষ

বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিরোধ মেটাতে গিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কলেজের লাইব্রেরি সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কলেজের লাইব্রেরির সামনে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের একদল ছাত্রদল কর্মীর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে অধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও আহত হন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, রোববার (১১ অক্টোবর) কলেজের সামনে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধকে কেন্দ্র করে হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী সিজানের অনুসারীদের সঙ্গে বিএম কলেজের ছাত্রদল কর্মী জিদানের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বহিরাগত ছাত্রদল কর্মীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে বিরোধ বাড়ে। পরে রাত ১০টার দিকে লাইব্রেরি সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
হাতেম আলী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মোস্তাক সরদার শাওন বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষ দিকে কলেজের সামনের এলাকার ও লেকপাড়ের কয়েকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির সময় অধ্যক্ষের মাথায় আঘাত লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি চলে যান।
শাওন আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ব্যানারে ছাত্রদল এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।
কলেজের নবীনবরণ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নজমুল হক বলেন, অনুষ্ঠানের শেষ দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী লাইব্রেরির পাশের ফুলের বাগানে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অধ্যক্ষের গালের ওপরের অংশ কেটে যায়। পরে তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এইচকেআর