উজিরপুরে যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৯

বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার (৩২) নামে এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কাওছার হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার আলমদী গ্রামের মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন।
আহত রাশেদ আমিন হাওলাদারের ভাষ্য, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কাওছার ও আশিকুলের সঙ্গে প্রতিপক্ষের নান্না মোল্লা, সজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এর আগে উপজেলার আলমদী এলাকায় সজলকে মারধর করেন নিহতের পক্ষের লোকজন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার জেরে সজলের ভাই সৌদি আরবপ্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ। গত ২১ অক্টোবর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ইকবাল।
রাশেদের দাবি, এসব ঘটনার প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার রাতে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে লোকজন সাতলা এলাকায় আসেন। রাত ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় কাওছার ও তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা একটি সেতু থেকে পাশের বিলের পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে সড়কের পাশের হাবিব হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন।
রাশেদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িটির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কাওছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাশেদ দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বেঁচে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের উজিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের জন্যও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এইচকেআর