ঢাকা রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী দুই শতাধিক ব্যক্তির মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ  রহমতের দশকে আত্মশুদ্ধির ডাক: আজ দ্বিতীয়  ভাঙনের কবলে বরগুনার পর্যটনস্পট শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত নকলের মতোই শিক্ষাঙ্গন হবে মাদক-সন্ত্রাস ও ইভটিজিং মুক্ত: শিক্ষামন্ত্রী দিনে ৬ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দাবি আদায় বা আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সহ্য করা হবে না যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়লো বিধি-বিধানের বাইরে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে দেবো না: তথ্যমন্ত্রী  ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড
  • শ্রীপুরে ভেঙে পড়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর

      শ্রীপুরে ভেঙে পড়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মুজিব বর্ষের ঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। ঘর নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে ১১ টি ঘর। এদিকে প্রতিদিন জোয়ারের পানি উঠে আটকে থাকে ঘরের চারপাশে। একটু বর্ষা হলেই মেঝেতে পানি উঠে যায়। এতে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে আশ্রায়ন প্রকল্প। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অনেকেই থাকছেন না ঘরে।

    এছাড়া এই আশ্রায়ন প্রকল্পে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ মোল্লা বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দরিদ্র গৃহহীনদের পরিবর্তে সমাজের বিত্তশালী ও সামর্থবানদের নামে ঘর বরাদ্দের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    জানা গেছে ,ঘর বরাদ্দ প্রতি ৩০ হাজার টাকা করে ১০৫ টি ঘর থেকে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন চেয়ারম্যান হারুন। অর্থের বিনিময়ে সমাজের সামর্থবান ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর। ঘর পেয়েছেন চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ মোল্লার আপন চাচাতে ভাইয়ের নাতী শ্রীপুর হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মোঃ ছালাম খানের ছেলে মোঃ রাকিব, সরকারি রেশন ভাতা প্রাপ্ত ভোলা পাসপোর্ট অফিসের আনসার সদস্য মিজানুর রহমান।

    এছাড়াও এই আশ্রায়ন প্রকল্পের ১ হাজার ফুট দূরে বিশেষ সুবিধা দিতে ধনাঢ্য ২ ব্যক্তির মেইন বসতঘরের পাশে নির্মান করেছেন ২ টি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর। যেই ঘর তারা এখন মেইন ঘরের রান্না ঘর ও লাকড়ি রাখার কাজে ব্যবহার করেন। এই দুই ব্যক্তি হলেন, আধাপাকা দোতলা ভবনের মালিক শ্রীপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদ ও চৌচালা ঘরের মালিক মাছের ব্যবসায়ীর রফিক। অভিযোগ উঠেছে তাদের এই দুজনকে বিশেষ সুবিধায় গৃহ বরাদ্দ দেয়ার জন্য ঘরপ্রতি নিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়  এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, এই চেয়ারম্যান প্রত্যেক ঘরের জন্য ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। গ্রামের গরীব অসহায় মানুষদের ঘর না দিয়ে সামর্থবান, ধনীব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। প্রত্যেকের ঘর বুঝিয়ে দেওয়ার পর পরই কাজ নিম্ন মানের হওয়ায় ঘর ভেঙে গেছে এবং চেয়ারম্যান যেই স্থানে ঘর দিয়েছে কোনো রকম বসবাস করার অনুপোযোগী। প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়েও গরীব মানুষের কোন উপকার হলো না। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    অভিযোগের ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ হারুন অর রশিদ মোল্লা জানান, আমার নামে তো অভিযোগের শেষ নাই। মার্ডার হলেও অভিযোগ আমার নামে আসে। আমি কোন প্রকার টাকা পয়সা নেই নাই। যাদের ঘর নাই তাদেরকেই ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখানে কোন প্রকার স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতি করা হয় নাই।

    মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদত হোসেন মাসুদ বলেন, আমি দুই মাস হল দায়িত্ব নিয়েছে । সুবিধাভোগী লোক আগেই নির্ধারন হয়েছে ।  তাই এখানে কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে আশ্রায়ন প্রকল্পে জোয়ারের পানি আটকে থাকে এবং ১১ টি ঘর ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এটা সত্য।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ