ব্যস্ত বরিশালে শান্ত রূপ, রাজপথ রিকশার দখলে

বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যদুপুর। সাধারণ দিনে এসময় বরিশাল নগরীর যে সড়কগুলো গাড়ির হর্ন, যানজট আর মানুষের ছুটোছুটিতে মুখরিত থাকে, সেখানে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আজ ব্যস্ত মহানগরে হঠাৎ নেমে এলো শান্ত রূপ। রাজপথ দখলে নিল পায়ে টানা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
নগরের পুলিশ লাইন প্রধান সড়কে দেখা গেল এক রিকশাচালক ফাঁকা রাস্তায় যাত্রী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন নির্ভার ভঙ্গিতে। সেই সঙ্গে গলা ছেড়ে গাইছেন- ‘চলে আমার সাইকেল হাওয়ার বেগে উইড়া উইড়া।
কৌতূহলবশত রিকশাটি থামাতে বললে হকচকিয়ে গান থামিয়ে চালক নিচু গলায় বলেন, স্যার, আমি আশকোনা এলাকায় রিকশা চালাই। জানি, এই রাস্তায় রিকশা নামা নিষেধ। কিন্তু আজ নির্বাচনের কারণে অনান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ, তাই এখানে নামছি।
রিকশায় ছিলেন এক তরুণ দম্পতি। তারা হেসে চালকের পক্ষ নেন। বলেন, ওর কোনো দোষ নেই। সকালেই ভোট দিয়েছি। ফাঁকা রাস্তায় একটু ঘুরে দেখার ইচ্ছা বলেই তাকে রাজি করিয়েছি।
ট্রাফিক পুলিশ ধরেনি- এ প্রশ্নে চালকের জবাব, আজ মনে হয় তাদের ছুটি। রাস্তায় কাউকে দেখলাম না। কথা শেষ করেই আবার ধীরগতিতে এগিয়ে যান তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি। ভোট নির্বিঘ্ন করতে নির্বাচন কমিশন মোটরসাইকেল, ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। জরুরি পরিবহন ছাড়া অধিকাংশ যানবাহন বন্ধ থাকায় বরিশালের চেনা কোলাহল স্তব্ধ হয়ে আছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ রাস্তাঘাটে বিরাজ করছে নীরবতা। যে শহর সাধারণত কাকডাকা ভোর থেকেই ব্যস্ততায় জেগে ওঠে, সেখানে ধীর-স্থির পরিবেশ দেখা গেছে। চোখে পড়েছে মূলত রিকশার চলাচল।
বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের বাড়ি থেকে রিকশায় করে কেন্দ্রে নিয়ে যেতে দেখা গেছে প্রার্থীদের সমর্থকদের। ভোট শেষে আবার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল কোথাও কোথাও। নির্বাচনি উত্তেজনার পাশাপাশি এ দৃশ্য যোগ করেছে আলাদা মাত্রা।
সরকারি ছুটির দিনটিতে কেউ কেউ ভোট দিয়ে কাছের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গণপরিবহন প্রায় বন্ধ থাকায় রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের ব্যস্ততা কাটছে সবচেয়ে বেশি। যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ভাড়া কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে। তবে চালকদের ভাষ্য- আজ অন্যদিনের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
এইচকেআর