প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সমগতের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক ক্যাম্প

প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (Technology-Facilitated Gender-Based Violence—TFGBV) প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন সমগত (সবাই মিলে গড়ে তুলি)-এর উদ্যোগে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (UGV), বরিশাল-এ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক ক্যাম্পের উদ্বোধনী পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (UGV)-এর ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. জিয়া উল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইংরেজি বিভাগের উপ-প্রধান আদনান সাকুর এবং সমগতের উপদেষ্টা মমতাজ বেগম সাকি।
সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও উপস্থাপনা করেন দিপু হাফিজুর রহমান এবং প্রতিভা শারমিন নিটল।
বক্তারা অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অনলাইন হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
জিয়া উল হক বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীসহ সকল নাগরিকের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগই প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী নাফিসা বলেন, তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল নৈতিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং নিরাপদ অনলাইন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
এছাড়া সেমিনারে প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিভিন্ন রূপ, এর সামাজিক ও মানসিক প্রভাব, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা এবং বিদ্যমান আইনগত প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সমগতের সভাপতি নাজনীন সুলতানা বলেন, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহিংসতামুক্ত ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। অনুষ্ঠানের মূল পর্ব সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোমেনা শিফা।
পরে সচেতনতামূলক প্রদর্শনী বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং সরকারি বিএম কলেজ। বিতর্কে প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের ভূমিকা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিকত্বের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আগ্রহী তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এইচকেআর