দাবি আদায়ে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের শ্রমিকদের অনশন

লোহার গেটে ঝুলছে তালা। গেটের পাশে রাস্তার ওপর বসে আছেন নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা। তাঁদের সামনেই সারি করে রাখা কয়েকটি খালি স্টিলের থালা। মাথার ওপর টাঙানো ব্যানারে লেখা, ‘প্রতীকী অনশন’।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের গেটের সামনে এভাবেই অনশনে বসেছেন কারখানাটির শ্রমিকেরা। বকেয়া বেতন পরিশোধ, কারখানা খুলে দেওয়া এবং ছাঁটাইয়ের নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল থেকে তাঁরা অবস্থান করছেন।
শ্রমিকদের দাবি, গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সব শ্রমিককে এবং সাতজনকে আলাদাভাবে স্থায়ী বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসব নোটিশকে ‘অবৈধ’ দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।
শ্রমিকেরা জানান, কারখানা বন্ধের আগে এক কর্মকর্তার সঙ্গে এক শ্রমিকের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে ওই শ্রমিককে শোকজ করা হলে তিনি জবাব দেন। এরপর কর্মকর্তারা কর্মবিরতিতে গেলে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়। শ্রমিকদের ভাষ্য, তাঁরা আইন মেনেই নিজেদের দাবি জানিয়েছিলেন। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কারখানার গেটের সামনে অবস্থান করছেন তাঁরা।
বকেয়া বেতন নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে শ্রমিকদের। তাঁদের দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আগস্ট মাসের বেতনও তাঁরা পাননি। ছাঁটাইয়ের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের দুজন প্রতিনিধি এবং মালিকপক্ষের চারজন রয়েছেন বলে জানান তাঁরা।
গত শুক্রবার বকেয়া বেতনের দাবিতে হাতে থালা-বাসন নিয়ে ‘ভুখা মিছিল’ করেন শ্রমিকেরা। কারখানার গেট থেকে মিছিলটি নথুল্লাবাদের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আবার গেটের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ হয়।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, রিকশা-ভ্যান চালক ইউনিয়ন এবং নগরের রেফকো ও মেডিমেট ফার্মাসিউটিক্যালসের শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সংহতি জানান।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী এ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেন, দাবি জানানোয় শ্রমিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বকেয়া বেতন পরিশোধ ও তাঁদের বিরুদ্ধে দেওয়া নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
শ্রমিকেরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
অন্যদিকে, ছাঁটাইসংক্রান্ত নোটিশে স্বাক্ষর করা কারখানার ফ্যাক্টরি ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কারখানার গেটে তালা দেওয়া ছিল।
এইচকেআর