বাউফলে রানী হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

পটুয়াখালীর বাউফলে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রানী বেগমকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় হালিম রাড়ী (৪৮) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পুষ্প বেগম নামে অন্য এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর বাউফল উপজেলার মধ্য কেশবপুর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কাশেম রাড়ীর বাড়ির সামনে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রানী বেগমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় হালিম রাড়ী ও পুষ্প বেগম দা দিয়ে রানী বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরে নিহত রানী বেগমের স্বামী আবুল হোসেন বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২১ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ এজাহারকারী, তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিপক্ষের জেরা ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে হালিম রাড়ীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আর অন্য আসামি পুষ্প বেগমকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পুষ্প বেগম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় গ্রেফতারের পর থেকে তার সাজা কার্যকর হবে বলে আদালত আদেশে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে হালিম রাড়ী দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী মজিবুর রহমান টোটন বলেন, মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিচারাধীন অন্যান্য মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করেন তিনি।
এইচকেআর