বরিশালে বিশ্ব বসতি দিবসে র্যালি

‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে সোমবার সকালে নগরীতে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভীন।
গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইকবাল শিকদারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইয়েদুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম। এসময় গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, একটি ভবন নির্মাণ করলেই নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত হয় না। একটি বাসস্থানকে বাসযোগ্য করতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, অগ্নিনিরাপত্তা, খোলা জায়গা ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ভবন নির্মাণের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় না নেওয়ায় পরবর্তীতে ভবনে ফাটল, হেলে পড়া ও বসে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
তিনি বলেন, সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করার সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নগরায়ণ মানেই শুধু একের পর এক ভবন নির্মাণ নয়; বরং আবাসিক এলাকার পাশাপাশি রাস্তা, ড্রেনেজ, খেলার মাঠ, পার্ক, উন্মুক্ত স্থান, হাসপাতাল, বিদ্যালয়, গণশৌচাগার ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের সময় যাতে মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে বের হতে পারে, সেজন্য প্রতিটি ভবনে জরুরি বহির্গমন পথ ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
জলাধার ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, নগরায়ণের নামে পুকুর, খাল, জলাশয় ভরাট করে আবাসন গড়ে তোলা হলে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে, অন্যদিকে জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়বে। পৃথিবীর পরিবেশ সুরক্ষায় যেমন স্থলভূমির প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি পানি ও জলাধারও অপরিহার্য। তাই পরিকল্পিত নগরায়ণে ভবন নির্মাণের পাশাপাশি জলাধার, সবুজ এলাকা ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ করতে হবে।
এইচকেআর