আগৈলঝাড়ায় পোষ্ট মাস্টারের দায়িত্বে পোষ্টম্যান

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় উপজেলা সদর পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাস্টার না থাকায় পোষ্টম্যানকে পোস্ট মাস্টারের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনি অনভিজ্ঞ ও একই সাথে পোস্টম্যানের দায়িত্ব পালন করায় পোস্ট অফিসের সেবা গ্রহীতারা পরেছে চরম ভোগান্তিতে।
গত ১২ দিন যাবত লেন-দেন বন্ধ থাকায় পোস্ট অফিসের সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে, দুর্গাপূজা সামনে রেখে টাকা তুলতে ও টাকা জমা রাখতে না পারায় এতে হতাশ হয়ে ক্ষুব্দ হয়েছে সেবা গ্রহিতারা।
জানাগেছে, আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার মো. রাশেদ হাসান গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলা পোষ্ট মাস্টারের পদ থেকে অব্যহতি নিয়ে অন্যত্র চাকরিতে চলে যায়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা সদর পোষ্ট অফিসের পোষ্টম্যান (চিঠি ডেলিভারী ম্যান) মো. মহিউদ্দিন পোষ্ট মাস্টারের দায়িত্ব পালনে পাশাপাশি পোষ্টম্যানর দায়িত্বও পালন করছেন। এ সময়ের মধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলা পোষ্ট অফিসের অসংখ্য আমানতকারি তাদের গচ্ছিত টাকা উত্তোলন করতে ও টাকা জমা রাখতে এসে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন।
বর্তমানে পোষ্ট মাস্টারের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন পোষ্ট অফিসের চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ অন্যন্য সেবা দিয়ে আসছেন। তিনি গত ১২ দিন যাবত আমানত কারীদের সাধারণ হিসাব ও মেয়াদী হিসাবের লেনদেন বন্ধ রেখেছেন। পোস্ট অফিসের গ্রাহকরা কোন টাকা জমা দিতেও পারছে না অন্যদিকে জমা টাকা তুলতে পারছেন না।
সরেজমিনে সোমবার দেখা গেছে, পোষ্ট মাস্টারের দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন কিছু সময় অফিসের কাজ করার পড় নিজেই উপজেলা সদরে চিঠিপত্র ডেলিভারি দিতে বেরিয়ে পড়েন। তিনি উপজেলা সদরের সরকারী অফিস, স্কুল-কলেজ, থানা ও আগৈলঝাড়া বাজারসহ পার্শ্ববর্তি গ্রামের চিঠিপত্র ডেলিভারি দিতে তার প্রতিদিন ৪-৫ ঘন্টা সময় লাগে। এ সময়ে সাধারণ গ্রাহকসহ আমানত কারীরা বিভিন্ন জরুরী প্রয়োজনে পোষ্ট অফিসে এসে পোস্ট মাস্টারকে না পেয়ে অফিসে অবস্থান করা মেইল কেবিয়ার কাম পেকার এনায়েত হোসেন ও নৈশ প্রহরী মো. শাহ আলম গ্রাহকদের চাহিদা মত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পোস্ট মাস্টারের অনুপস্থিতির কারণে সেবা দিতে ব্যর্থ হন।
উপজেলা সদর পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাস্টারসহ ৬টি পদ শূন্য থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম আকারে পৌঁছেছে। এ কারনে সাধারণ গ্রাহকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে টাকা তুলতে না পেরে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পরেছেন। এমনকি পোস্ট অফিসের সেবা গ্রহীতারা একাধিকবার পোস্ট অফিসে এসেও জীবন বীমার মাসিক কিস্তি দিতে পারছে না।
সূত্র জানায়, উপজেলা সদর পোষ্ট অফিসে ১জন পোষ্ট মাস্টার, ২জন পোষ্টাল অপারেটর, ২ জন পোষ্টম্যান, ২জন রানার, ১জন পেকার কাম মেইল কেবিয়ার, ১ জন নৈশ প্রহরী ও ১জন ঝাড়ুদারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১০টি পদ রয়েছে। কিন্তু আগৈলঝাড়া উপজেলা পোষ্ট অফিসে বর্তমানে ১ জন পোষ্টম্যান, ১ জন পেকার কাম মেইল কেবিয়ার, ১ জন রানার ও ১ জন নৈশ প্রহরীসহ ৪ টি পদে পদায়ন থাকলেও বাকি ৬টি পদ শুন্য রয়েছে। এ কারনে ভোগান্তির মাত্রা আরো বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসের একজন আমানতকারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, আমার জমানো টাকা জরুরী প্রয়োজনে তুলতে এসে পোস্ট মাস্টার না থাকার কারণে সময় মত তুলতে পারছি না।
পোস্ট মাস্টারের দায়িত্বে থাকা পোষ্টম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পোস্ট মাস্টার চলে যাওয়ার পড় আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, পোস্ট মাস্টারের দায়িত্ব ভালো বুঝিনা, আর টাকা পয়সার ব্যাপার, তাই ভয়ে দায়িত্ব নিতেও চাচ্ছি না।
এ ব্যপারে বরিশালের পোস্ট অফিস পরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন বলেন, আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসে সেভিংসের অনেক কাজ রয়েছে পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিন তা তিনি বুঝেনা, ওনাকে দিয়ে কাজ করানো সম্ভব না।আগৈলঝাড়া উপজেলা পোস্ট মাস্টার চাকরী ছেড়ে চলে যাওয়ায় সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, আমরা দ্রুত এর সমাধানের চেস্টা করব।
এ ব্যাপারে বরিশাল পোস্ট মাস্টার ডেপুটি জেনারেল নাঈম ইবনে রহমানের 01779984325 নাম্বারে বক্তব্যের জন্য একাধিকবার ফোন ও খুদেবার্তা পাঠিয়েও রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এইচকেআর