রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবপাচার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন কোনো না কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যতই দিন যাচ্ছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানবপাচার, ইয়াবা ব্যবসা, নিজেদের মধ্যে হানাহানি, ডাকাতি কাজে রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে।
আজ বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়া আর্মি ক্যাম্পের মোছনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের আই ব্লকে পুতিয়া সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য রোহিঙ্গা মুনাকে (২৮) কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এ হামলায় নেতৃত্ব দেয় আরেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হাসেম।
এর আগে, মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রামু উপজেলার খুনিয়া পালং মরিচ্যা চেকপোস্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাত হাজার ইয়াবাসহ আবুর হোসেন (২০) নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে ৩০ বিজিবি রামু ব্যাটালিয়নের টহলদল। আটক আবুর টেকনাফের ২৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৫ নম্বর ব্লকের আব্দুল হামিদের ছেলে। আটক আসামির বিরুদ্ধে রামু থানায় মাদক আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জানা যায়, ইয়াবার টাকা লেনদেন নিয়ে নিজেদের ভেতর দ্বন্দের প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা হাসেম মুনাফকে মারধর ও দা দিয়ে কোপ দেয়। বিষয়টি ১৬ এপিবিএন পুলিশ জানলে মুনাফকে উদ্ধার করে আইপিডি হাসপাতালে পাঠায় এবং তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
একই দিন ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকের আব্দুস সালামের ঘরে অভিযান চালিয়ে তিনটি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ মা ও মেয়েকে আটক করেছে এপিবিএন পুলিশ। আটক নুরজাহান আব্দুল সালামের স্ত্রী ও আসমিদা নুরজাহান-আব্দুল সালাম দম্পতির মেয়ে।
জানা যায়। রোহিঙ্গা পরিবারটি দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রাম চন্দনাইশ এলাকায় বসবাস করার সময় অবৈধভাবে এনআইডিগুলো তৈরি করে।
ওই দিনই কক্সবাজারের টেকনাফ শালবাগান ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লক এলাকায় দুই রাউন্ড ফায়ার করেছে অজ্ঞাত সন্ত্রাসী। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কোনো সশস্ত্র ডাকাত গ্রুপ এ ফায়ার করতে পারে।
মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) ভাসানচরের ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লক থেকে পালিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে মায়ের কাছে পালিয়ে এসেছে সাকেরা বেগম (২১) নামের এক রোহিঙ্গা নারী। সাকেরা ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হোসেন আহমদের স্ত্রী।
তারও আগে, সোমবার (৩০ আগস্ট) কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়া পালং ইউপির দক্ষিণ গোয়ালিয়া পালং সেতুর পাশে থেকে এক হাজার ইয়াবাসহ ফাতেমা (৪০) নামের এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে বিজিবি রামু ব্যাটালিয়নের টহলদল। আটক মোছা. ফাতেমা বেগম উখিয়ার কুতুপালংয়ের দুই নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৩ ব্লকের ইসমাইলের স্ত্রী। আটক আসামির বিরুদ্ধে রামু থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।
একই দিন কক্সবাজারের রামুর খুনিয়া পালং মরিচ্যা চেকপোস্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ইয়াবাসহ আমেনা খাতুন (৩২) নামের এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে ৩০ বিজিবি রামু ব্যাটালিয়নের টহলদল। আটক মোছা. আমেনা খাতুন উখিয়ার কুতুপালংয়ের ১০ নম্বর ক্যাম্পের সি ব্লকের সিরাজুল হকের মেয়ে। আটক মাদক ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা আসমার বিরুদ্ধে রামু থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।
এইচেকআর