ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

Motobad news

বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ছাড়াল ২৩ কোটি

বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ছাড়াল ২৩ কোটি


চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। একইসঙ্গে আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে দৈনিক মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। এরপরই রয়েছে ব্রাজিল। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৩ কোটি ২ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৭ লাখ ২১ হাজার।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮ হাজার ১০৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে আড়াই হাজারের বেশি। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৭ লাখ ২১ হাজার ৫৭০ জনে।

একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭৬৮ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬৪ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬০৮ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৯ জন এবং মারা গেছেন ১ হাজার ৮৯৯ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৮৩৭ জন মারা গেছেন।

দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছেন ৮১২ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৯ হাজার ১৭৯ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৭৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৫১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮০৮ জনের।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৮৪ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৯১ হাজার ৫১৮ জনের।

এদিকে করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান তৃতীয়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৮৫ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ হাজার ৩৩৩ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ৭৭ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮০১ জন।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মেক্সিকোতে মারা গেছেন ২৬২ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৬৭ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৭৬৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৭১ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২৬৩ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৫৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮০৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৭৯ জন এবং নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৫৬৪ জন। করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯৬ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ১ লাখ ১৭ হাজার ৯০৫ জন মারা গেছেন।

এছাড়া এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬৯৯ জন, যুক্তরাজ্যে ৭৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৪৩ জন, ইতালিতে ৪৬ লাখ ৪১ হাজার ৮৯০ জন, তুরস্কে ৬৯ লাখ ৪ হাজার ২৮৫ জন, স্পেনে ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৪ জন এবং জার্মানিতে ৪১ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে এক লাখ ১৬ হাজার ২৫১ জন, যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫৫ জন, ইতালিতে এক লাখ ৩০ হাজার ৪২১ জন, তুরস্কে ৬২ হাজার ৬৫ জন, স্পেনে ৮৫ হাজার ৯৮৩ জন এবং জার্মানিতে ৯৩ হাজার ৭১৯ জন মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।


এসএম