ঢাকা রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
হুমকির মুখে ভাসমান পাখির অভয়ারণ্য

কাঠালিয়ায় রাতের আঁধারে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব

 কাঠালিয়ায় রাতের আঁধারে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব
রাতের আঁধারে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া খেয়াঘাটে বিষখালী নদীর তীরে প্রকৃতিক ভাবে তৈরি হওয়া পাখির অভয়ারণ্য কেন্দ্র ছৈলারচর থেকে সরকারি নিষেধ উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে। এতে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নদীর তীরের মানুষের বসবাসের। তেমনি বালু উত্তোলনের কারনে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আতংক রয়েছে এলাকাবাসির।

প্রতিদিন চর থেকে বালু উত্তোলন করার কারনে  উপজেলা প্রসাশন ঘোষিত প্রকৃতিক ভাসমান পাখির অভয়ারণ্য ছৈলার চর দিন দিন ভেঙে যাচ্ছে। রাতে নদীতে মাছ ধরতে আসা জেলে রুস্তুম, বারেক, ও জসিম বলেন, আমরা রাতে মাছ ধরি প্রতিদিন। মধ্য রাতে এই চরের পাশে প্রায়ই বালু উত্তোলন করতে দেখি। তবে কে বা কাহারা বালু উত্তোলন করে তাদের আমরা  চিনি না। 

শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মাহমুদ হোসেন রিপন বলেন, আল্লাহর রহমাতে আমার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড শৌলজালিয়া বেতাগি খেয়াঘাটে প্রকৃতিক ভাসমান ছৈলারচর তৈরি হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন প্রজাতি হাজার হাজার পাখির বসবাস। প্রতিদিন এই সৌন্দয্য দেখার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে  ছুটে আসে মানুষ।  গতো ২০২০ সনে উক্ত চরেকে উপজেলা প্রসাশনের সহায়তায় পাখির  অভয়ারণ্য ষোষনা করেন। যেখানে পাখি যত্নে তৈরি করা হয়েছে পাখি বসবাসের স্থান। তাই এই চর রক্ষায় কোন প্রকার অপশক্তির সাথে আপোষ করা হবে না।

কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. এমাদুল হক মনির বলেন, কাঠালিয়ায় ভাসমান দুটি ছৈলারচর হয়েছে ইতিপুর্বে হেতালবুনিয়া ছৈলারচর কে ভাসমান পর্যাটন কেন্দ্র হিসাবে তৈরি করা হয়েছে। আর শৌলজালিয়া খেয়াঘাটে যে চড়টি হয়েছে সেটাকে পাখির  অভয়ারণ্য ঘোষনা করা হয়েছে। সেটা উন্নয়নের জন্য ইতিপুর্বে কাজ শুরু হয়েছে। তাই যারা রাতের আধারে বালু উত্তোলন করে তাদের উপজেলা পরিষদ থেকে ছাড়া দেয়ার সুযোগ নেই।

কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী আফিসার সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, আমি অবৈধ বালু উত্তোলনের খরব শুনে গত ২২ অক্টোবর রাতে শৌলজালিয়া খেয়াঘাটে প্রকৃতিক ভাবে তৈরি হওয়া ছৈলারচর যে টাকে আমরা পাখির  অভয়ারণ্য হিসাবে নির্ধারণ করি। সেখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারনে গভীর রাতে বরগুনা জেলার বেতাগি উপজেলার বদনিখালী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে কবির হোসেন কে ৪ টি বালু ভর্তি জাহাজ সহ আটক করি। পরের দিন তাকে মোবাইল কোটে ১ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। আমি অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ পাই কিন্তু ট্রলার যোগে যেতে যেতে তারা পালিয়ে যায়। আমার উপজেলা প্রসাশনের স্পিড বোড বিকল থাকায় দ্রুত যাওয়া সম্ভব হয়না। তাই তাদের আটক করতে পারছি না। তারপরও তাদের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ।

 

 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ