বোমা-ভাংচুরের মধ্যে ভোট, নৌকার প্রার্থীসহ আহত অর্ধশতাধিক

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বসতঘর ভাঙচুর ও বোমা হামলা, আংগারিয়ায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বোমা হামলা, সংঘর্ষ, রুদ্রকর, মাহমুদপুর ইউনিয়নে কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আংগারিয়ায় পুলিশ ফাঁকা গুলি করেছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীসহ আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার সকালে শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ হোসেন ফকিরের সমর্থকদের বসতঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১৫ জন মারাত্মক আহত হয়েছে।
পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একই ইউনিয়নের উপুরগাঁও হাসেন দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দড়ি হাওলা কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকদের জাল ভোট দেওয়া ও এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দুপুরে আংগারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চরযাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও নৌকার প্রার্থী আসমা আক্তারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বোমা ফাটিয়ে ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্র দখল করতে চেষ্টা চালায়।
এ সময় দু গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। প্রায় শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিজিবি, আনসার, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বোমা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৩০ জন মারাত্মক আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেছে।
মাহমুদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাহমুদপর কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিদ্রোহী প্রার্থী লোকজনের হামলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত হোসেন হান্নান তালুকদারসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় বলে পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন জানিয়েছেন।
আংগারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আক্তার হোসেন মোড়ল বলেন, আমাদের কেন্দ্রে বোমা হামলার কারণে সাধারণ ভোটাররা ভয় পান।
তুলাসার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মান্নান দেওয়ান বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করি। এ কারণে তারা আমার দোকানপাট ভাঙচুর করছে। আমার একটাই দোকান। মাল-সামানা নগদ টাকা ছিল সব নিয়ে গেছে।
শরীয়তপুর সদরের তুলাশার ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদ ফকির বলেন, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী জামাল হোসাইনের কর্মীরা আমার কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৯টি বসতঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে। হামলার সময় ১১ জন আহত হয়েছেন।
পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, বোমা হামলাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।