লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড : চলছে তৃতীয় দিনের উদ্ধার অভিযান

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
রোববার সকাল ৯টায় বরিশাল নৌ-ফায়ার স্টেশনের ডুবুরিদল উদ্ধার কাজ শুরু করে।
নৌ-ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি লিডার হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় আমরা ঝালকাঠিতে এসে পৌঁছেছি এবং ৯টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘নদীর পাড়ের বাসিন্দাদের ফায়ার সার্ভিসের মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে, যাতে কেউ কোনো স্থানে লাশের খবর পেলে আমাদের দ্রুত জানাতে পারে।’
নতুন করে কোনো লাশের সন্ধান মেলেনি বলেও জানান তিনি।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ডুবুরিরা লঞ্চ ও সুগন্ধা নদী থেকে এ পর্যন্ত ৪০ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ১৭ জন নারী, ও ৮ জন পুরুষ রযেছে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঝালকাঠি ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকদের করা তালিকা অনুযায়ী এখনো আরো ৫২ জন নিখোঁজ রয়েছে।
এদিকে নিখোঁজ প্রিয়জনদের সন্ধানে স্বজনরা আজও ট্রলার নিয়ে নদীতে নেমেছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি নিয়ে নদীর পাড়ে পাড়ে ঘুরছেন তারা।
ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকায় সুগন্ধা নদীতে বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। এতে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক। আর আহত অনেককে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল তার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিএ থেকে জানানো হয়েছে, লঞ্চটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিল। তবে লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে বলছেন, এই লঞ্চে যাত্রী ছিল আট শ’ থেকে এক হাজার।
এইচকেআর