ঢাকা সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • জ্বালানি তেলে অনিয়ম রোধে ডিসিদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ নাব্যতা সংকটে হুমকিতে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ! ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেফতার সরকারি হাসপাতালে দালালদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: র‍্যাব মির্জা আব্বাসকে নিয়ে মন্তব্য, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামে মামলা গরুর জাত ও ধরন অনুযায়ী মাংসের দাম নির্ধারণে আইনি নোটিশ বাড়ির দরজা খুলেই প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘চলেন যুদ্ধে যাই’ জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রাডার গুঁড়িয়ে দিলো ইরান ১৮ মাসের কাজ গড়িয়েছে ৪৮ মাসে, তবুও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
  • ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু, উদ্ধার অভিযান অব্যহত

    ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনে বিষখালী নদী থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার

    ঝালকাঠিতে লঞ্চে আগুনে বিষখালী নদী থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী লঞ্চ এমভি অভিযান এ আগুনে দগ্ধ একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে বিষখালী নদীর সদর উপজেলার কিস্তাকাঠি এলাকা থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পেটে পোড়া দাগ ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঝালকাঠি সদর থানার উপ পরিদর্শক মো. খোকন হাওলাদার জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নদীতে মৃতদেহ ভাসতে দেখে ৯৯৯ এ ফোন করেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। ঝালকাঠি থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। তবে এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শকিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় এক নৌকার মাঝির ফোন পেয়ে আমরা নদীর তীরে গিয়ে মৃতদেহ দেখতে পাই। পরে পুলিশ গেলে তাদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার করা ব্যক্তির বয়স ৪০ হতে পারে। তাঁর পেট আগুনে পোড়া ছিল। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ লঞ্চঘাট এলাকায় নিয়ে আসার পরেই ছুটে আসেন বাবা মা ও সন্তান হারানো বরগুনার পাথারঘাটা উপজেলার শাহিনুর বেগম। বাবা মুজাফ্ফর ও মা আমেনা বেগম সৌদি থেকে আসলে তাদের আনতে ঢাকায় যায় শাহিনুরের দুই মেয়ে কুলসুম বেগম, আয়শা ও ছেলে ওবায়েদুল কাদের। এমভি অভিযানে বাড়ি ফেরার পথে আগুন লাগার পর বাবা মা ও সন্তান সবাই নিখোঁজ। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে নির্বাক তিনি। তাই উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মৃত ব্যক্তির মুখমন্ডল ও শরীর ফুলে ওঠায় শনাক্ত করতে পারেনি কেউ। তবুও নিজের ছেলে ভেবে ছুয়ে দেখছেন এই মা। নিখোঁজদের খুজতে নদী তীরে ও লঞ্চঘাট এলাকায় তাঁর মতো আরো কয়েকজন স্বজনের দেখা মেলে। তাদের দাবি জীবিত না হলেও অন্তত মৃতদেহ যেন বাড়িতে নিয়ে দাফন করতে পারেন।

    শাহিনুর বেগম বলেন, আমার বাবা মা সৌদি আরব থেকে এসে বলেন, তোর ছেলে মেয়েদের (নাতি-নাতনী) পাঠিয়ে দে। আমরা একসঙ্গে থাকা থেকে আসবে। বাবা মায়ের সঙ্গে আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলেও লঞ্চে আসে। এর পর থেকে তাদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। লঞ্চে আগুনের খবর পেয়ে আমি রবিবার ঝালকাঠি এসেছি। দুইদিন ধরে খুঁজেও তাদের পাইনি। বাড়িতে ধান সিদ্ধ করে রেখে আসছি, আমি এখন পাগল হয়ে যাবো।
    নিখোঁজ ছোটবোন তাসলিমা আক্তার (৩২), ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার (১৫), সুমনা আক্তার তানিসা (১৩) ও ভাইয়ের ছেলে জুনায়েদ ইসলামকে (৭) খুঁজতে এসেছেন ঢাকার ডেমরা এলাকার মানির হোসেন। বরগুনা সদরের মোল্লাপুড়া গ্রামের তাঁর বোনের শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে আসার সময় লঞ্চে আগুন লেগে নিখোঁজ হয় তাঁরা।
    মনির হোসেন বলেন, আমার বোন শ্বশুর বাড়িতে নতুন বাড়ি করেছে, তা দেখার জন্য সন্তানদের নিয়ে যাচ্ছিল। লঞ্চে আগুন লাগার পর থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বজনদের অন্তত মৃতদেহ যেন বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি, সেই অপেক্ষায় আছি। বিকেলে সিআইডি আমার ও আমার ভাইয়ের নমুনা সংগ্রহ করেছে।

    এদিকে চতুর্থ দিনের মতো সোমবার সকাল থেকে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। এছাড়াও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে বিকেলে। সুগন্ধা নদী তীরে মিনি পার্কে তাঁরা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠাবে। এ পর্যন্ত দুই জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যদি আরো কোন স্বজন নমুনা দিতে আসে, তা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির কর্মকর্তা।

    ঝালকাঠি সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার অরিত সরকার বলেন, নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে। আশাকরি চার-পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট চলে আসবে। তাহলে মৃতদেহ শনাক্ত করা সহজ হবে। আমাদের ফরেনসিক টিম এখানে কাজ কাজ করছে। আমাদের চেয়ে বরগুনাতে স্বজনরা ডিএনএ বেশি দিবে, কারণ ওখানেই তাদের পরিবারের লোকজন আছেন।

     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ