চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই

ঝালকাঠির নলছিটিতে সোবহান খলিফা (৬০) নামের এক চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নলছিটি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাদারিপুর জেলার চরমুশুরিয়া গ্রামের আবদুর রহমান মিন্টু ফরাজী (৫২), বরিশাল বন্দর থানার দূর্গাপুর গ্রামের রুবেল হাওলাদার (৩৫) ও জসিম খান (৩৮)। এরা তিনজনই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত সোবহান খলিফা উপজেলার তিমিরকাঠি এলাকার মৃত রশিদ খলিফার ছেলে। গত ১৯ ডিসেম্বর সকালে ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে শ্রীরামপুর এলাকা থেকে ইজিবাইকচালক আবদুস সোবাহান খলিফার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক মফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রথমে বরিশালের বাকেরগঞ্জ এলাকায় শ্বশুর বাড়ি থেকে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল বন্দর থানা থেকে রুবেল ও জসিমকে করে পুলিশ। তাঁরা একটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। এই প্রাইইভেটকারে করে তারা বিভিন্ন স্থানে ছিনতাই করতো।
পুলিশের কাছে দেওয়া জবাননন্দিতে এই তিনজনই স্বীকার করেন, দুর্বল ইজিবাইকচালকদের তাঁরা টার্গেট করেন। দামি পোশাক পড়ে প্রাইভেটকার নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে যান। মাঝে মধ্যে প্রাইভেটকার নষ্ট হওয়ার অযুহাত দেখিয়ে ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রীবেশে ওঠেন। নিরাপদ স্থানে গিয়ে ইজিবাইক থামিয়ে চালককে গামছা পেচিয়ে হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। এতে কখনো ইজিবাইকচালকদের মৃত্যুও ঘটে।
তদন্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, মাদারিপুর ও শরিয়তপুর অঞ্চলে আবদুর রহমান মিন্টু ফরাজী একটি আতঙ্কের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টিতে তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি শ্বশুর বাড়ি বরিশালের বাকেগঞ্জ উপজেলায় আস্তানা করেন। সেখান থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী ও ঝালকাঠি-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কে ইজিবাইক ছিনতাই করেন। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা সন্ধ্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এইচকেআর