ঢাকা বুধবার, ১২ মে ২০২১

Motobad news

বরগুনায় রঙিন টিনের ঘরের বদলে দুই বৃদ্ধার ঠাঁই হলো গোয়ালে

 বরগুনায় রঙিন টিনের ঘরের বদলে দুই বৃদ্ধার ঠাঁই হলো গোয়ালে

বরগুনার আমতলীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের নতুন ঘর দেয়ার আশ্বাসে দুই বৃদ্ধার ঝুপড়ি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সেই ঘর তাদের না দিয়ে দেয়া হয়েছে স্বাবলম্বীদের। পরে দুই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে গোয়াল ঘরে।
ঘটনাটি ওই উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউএনও আসাদুজ্জামান আসাদকে টাকা না দেয়ায় ঘর পাননি তারা। এমনকি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিত জানালে ওই দুই বৃদ্ধাকে অপহরণ করান ইউএনও। পরে অভিযোগ তুলে নেয়ার কথা বললে তাদের ছেড়ে দেন ইউএনও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামে রঙিন টিন দিয়ে নির্মিত ঘর আছে মাত্র দুটি। এর একটি জাকির হোসেনের। তার ঘরে পল্লীবিদ্যুতের সংযোগের পাশাপাশি আছে দুটি সৌরবিদ্যুতের প্যানেল। তিন একর কৃষিজমি চাষের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ভাড়া দিয়েও ভালো টাকা আয় করেন জাকির।

এই জাকির হোসেন পেয়েছেন হতদরিদ্রদের জন্য দেয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর। অথচ একই এলাকায় ঝুপড়ি ঘরে বাস করতেন ৮৪ বছরের বিধবা চন্দ্র ভানু ও তার বিধবা মেয়ে ৬৪ বছরের শাহা বানু। প্রধানমন্ত্রীর ঘর দেয়ার কথা বলে তাদের ঝুপড়িটা ভেঙে ফেলতে বলেন আমতলীর ইউএনও আসাদুজ্জামান আসাদের কম্পিউটার অপারেটর এনামুল হক বাদশা।

চন্দ্রা ভানু ও শাহা বানু বলেন, এনামুলের কথা মতো ঝুপড়িটা ভাঙার পর সে আমাদের কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে এনামুল। সেই টাকা দিতে না পারায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরটি আমাদের দেয়া হয়নি। এখন প্রতিবেশীর গোয়ালঘরই আমাদের বাসস্থান।

চন্দ্রবানু ও শাহবানুর মতো আমতলীতে অসংখ্য মানুষ আছেন- যাদের জীবন কাটে ঝুপড়ি অথবা গোয়ালঘরে। এমন হতদরিদ্রদের নতুন ঘরের প্রলোভনে ফেলে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন ইউএনওর কম্পিউটার অপারেটর এনামুল।

কলাগাছিয়া গ্রামের সোবহান খলিফা, আবুল হোসেন শিকদার, আবি আব্দুল্লাহ বাচ্চু, গোলনাহার বিবি, সাফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, সারাজীবন কষ্টে কাটিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমাদেরও ঘর পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এনামুলের দাবি করা টাকা দিতে পারিনি বলে ঘর পাইনি। আমাদের প্রাপ্য ঘর দেয়া হয়েছে এলাকার ধনী ব্যক্তিদের।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, জাকির হোসেনের মতো হতদরিদ্রদের ঘর পাওয়া ধনীদের তালিকাটা বেশ লম্বা। ঘর পেয়েছেন ১০ একর কৃষিজমির মালিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোতাহার ফকির, ঢাকায় বেসরকারি চাকরি করা নাসির ফকির, আমতলীর ইউএনওর কম্পিউটার অপারেটর এনামুল হক বাদশার মামাতো ভাই তিন একর জমির মালিক নিমাই জোমাদ্দার, আরেক মামাতো ভাই পাঁচ একর জমির মালিক ওবাইদুল জোমাদ্দার, বন্ধু দুই একর জমির মালিক হাবিব গাজী, ভাই চার একর জমির মালিক সালাউদ্দিন গাজী, আরেক বন্ধু দুই একর জমির মালিক সেলিম গাজী, ফুফাতো ভাই পাঁচ একর জমির মালিক শহিদুল গাজী, ভগ্নিপতি ফজু হাওলাদার, চাচা বাঘা মৃধা, পাঁচ একর জমির মালিক নূর জামাল গাজী, দেড় একর জমির মালিক জাকির গাজী।

ঘর বিতরণে ইউএনওর এমন অনিয়ম ত্তুলে ধরে ২৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা কামাল রাঢ়ী। তিনি বলেন, অভিযোগ তুলে নিতে পরের দিনই আমাকে ও ওই বৃদ্ধাদের তুলে নিয়ে যায় ইউএনও আসাদের লোকজন। সেখানে আমাদের অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দেয়া হয়।

আমতলীর ইউএনও আসাদুজ্জামান আসাদ  বলেন, এসব বিষয়ে কিছুই বলার নেই। আমার শরীর ভালো না।

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। বিশদ তদন্ত শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রমাণ পেলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দিয়ে জানানো হবে।


টিএইচএ/