প্রশ্নফাঁস করে চারবার গ্রেফতার ওরা তিনজন

প্রশ্নপত্র ফাঁসে অর্থকড়ি কামানোর সন্ধান পেয়েছিলেন তিনজন। তিন বছর অন্তর তিনবার প্রশ্নফাসে জড়িত থাকায় গ্রেফতার হন তারা। প্রতিবারই মুক্তি পেয়ে বাইরে এসেছিলেন। ছাড়তে পারেননি প্রশ্নফাঁসের নেশা। তাই আবার জড়িত হন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অবৈধ কাজে। অবশেষে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ১০ জনের মধ্যে সেই তিনজনকেও গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও কাকরাইল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি ইয়ার ডিভাইস, মাস্টার কার্ড, মোবাইল সিম, ব্যাংকের চেক পাঁচটি, নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সাতটি, স্মার্টফোন ১০টি, বাটন মোবাইল ছয়টি, প্রবেশপত্র ১৮টি ও চলমান পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র তিন সেট উদ্ধার করা হয়।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রধান) এ কে এম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নোমান সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান আজাদ, আল আমিন রনি, নাহিদ হাসান, শহীদ উল্লাহ, তানজির আহমেদ, মাহবুবা নাসরীন রুপা, রাজু আহমেদ, হাসিবুল হাসান ও রাকিবুল হাসান।
হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ সিজিএ অফিসের সরকারী কর্মকর্তা এবং মাহবুবা নাসরীন রুপা বগুড়ার ধুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান।
তিনি আরো বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ কাকরাইলে অবস্থিত নিউ শাহিন হোটেলে থেকে অসাধু উপায়ে অবলম্বনকারী দুইজন পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে কাফরুল থানার সেনপাড়া এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ডিভাইস, প্রশ্নপত্র এবং উত্তর পত্রের খসড়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি পুলিশের অপরদল বিজি প্রেস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে পরীক্ষার্থী এবং পরিকল্পনাকারী মাহবুবা নাসরীন রুপাকে টাকা, ডিজিটাল ডিভাইসসহ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে অপর আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ, নাহিদ হাসান, আল আমিন সিদ্দিকী প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্তে ২০১৩, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে গ্রেফতার হয়েছিল।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অধীন ডিফেন্স ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ৫৫০টি অডিটর পদে নিয়োগের জন্য ৭০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশের নিকট তথ্য ছিল পূর্বে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া কতিপয় ব্যক্তি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল অ্যাপস এবং ব্যক্তি পরিবর্তন করে পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, উত্তর/সমাধান সরবরাহসহ অসদুপায় অবলম্বন করতে পারে। ওই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এসএম