ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১

Motobad news
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন

পায়রা বন্দর নির্মাণে গৃহহারা ১১৪ পরিবার পেল পাকা ঘর

পায়রা বন্দর নির্মাণে গৃহহারা ১১৪ পরিবার পেল পাকা ঘর
ছবি : প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী

 অবশেষে কাঙ্খিত পুনর্বাসনের পাকা ঘরের চাবি বুঝে পেল পায়রা বন্দর নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের মালিকরা। প্রথম পর্যায়ের ১১৪টি পরিবারকে পুনর্বাসনে প্যাকেজ-১ এর ঘরগুলো হস্তান্তর করা হলো। মুজিববর্ষের এই উপহার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সোয়া ১১টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন। 


পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বাড়িহারা মানুষগুলোর স্বপ্নের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ নিশ্চিত করলেন। ক্ষতির শিকার জেলে ও কৃষক পরিবারগুলো পরিজন নিয়ে পাকা ঘরে উঠতে শুরু করেছে। এই প্রকল্পটি নির্মিত হওয়ায় অনগ্রসর অজোপাড়াগাঁ কলাপাড়ার পায়রাবন্দর এলাকার লালুয়া ইউনিয়নের মেরাউপাড়া গ্রামটিতে এখন পৌঁছে গেছে শহরের সুবিধা। মানুষগুলো স্বপ্নের ভাবেন নি ঘর-বাড়ি-গাছপালা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার পরও চার কাঠা এবং তিন কাঠা জমিতে নির্মিত একতলা পাকা বাড়ি পাবেন। স্বপ্নের এই বাড়ির চাবি বুঝে পেয়ে সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে পূর্ণ হলো। 


দরিদ্র-হতদরিদ্র জেলে-কৃষকসহ হাইলা-কামলা শ্রেণির মানুষগুলে পাকা ঘরের মালিকানা বুঝে পেল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম প্যাকেজের ঘর উদ্বোধন করায় মানুষগুলো যারপরনাই খুশি হলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে কেউ ভূমিহীন হয়নি। একজন মানুষও গৃহহীন থাকবেনা। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন দেশের মানুষের মৌলিক সমস্যা বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্যসহ সবকিছু সমাধান করছেন। ওই অঞ্চলে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করেছিলেন। ভারতের সাথেও তিনি সমুদ্রসীমা নির্ধারনের জন্য আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। জাতির পিতা প্রথম সমুদ্রসীমা আইন প্রনয়ন করেন। তিনি বলেন, আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমা রয়েছে। রয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌ-বন্দর। এসব বন্দরের জন্য জাতির পিতা ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু পঁচাত্তর পরবর্তী জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ ও খালেদা জিয়া তাদের ড্রেজার সংগ্রহে কোনো মনোযোগ ছিল না।

পায়রার এই প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার পাঁচ শ’ পরিবারকে ১৪টি প্যাকেজের মাধ্যমে পুনর্বাসনের কাজ চলছে। যার প্রথম প্যাকেজের আধুনিক সুবিধা সংবলিত বাড়ি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় পায়রা প্রান্তে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর হুমায়ুন কল্লোল, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পিপিএম, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম রাকিবুল আহসান, পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, কলাপাড়ার ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পুনর্বাসিত পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোসাম্মৎ হেনা বেগম ও ফোরকান প্যাদা।


এমবি