বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রায় অনিশ্চয়তা কাটেনি

করোনা মহামারির কারণে বিগত ২ বছর বিদেশিদের হজ পালনের অনুমতি দেয়নি সৌদি আরব। হজ মৌসুমের প্রায় ৮ মাস আগেই হজের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া শুরু হলেও এবার এখনও কোনও ঘোষণা দেয়নি দেশটি। হজের প্রায় ৪ মাস সময় বাকি থাকলেও সৌদি সরকার হজ নিয়ে কোনও তথ্য দেয়নি। ফলে এবারও বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রায় অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সীমিত আকারে হলেও বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী প্রবেশের অনুমতি দেবে সৌদি।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এই বছর ৭ থেকে ১২ জুলাই হজ অনুষ্ঠিত হবে। স্বাভাবিক সময় প্রতি বছর হজের ৮ মাস আগেই সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের হজচুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মন্ত্রিসভায় হজ প্যাকেজ অনুমোদন করে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার মানুষ হজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এ বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি সৌদি সরকার। ফলে বাংলাদেশেও হজ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হজযাত্রীদের প্রস্তুতি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, সৌদি আরবের থেকে কোনও ঘোষণা আসেনি। হজচুক্তি হওয়ার পরেই হজযাত্রীদের নিবন্ধন, প্যাকেজ ঘোষণা, ফ্লাইট শিডিউলের বিষয়গুলো সামনে আসবে।
হজ এজন্সিগুলো জানিয়েছে, করোনার সংক্রমণ কমে এলে ওমরা পালনের অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। তবে হজ নিয়ে এখনও কোনও ঘোষণা দেয়নি। এর আগে ২০২১ সালে সৌদিতে অবস্থানরত ৬০ হাজার দেশি-বিদেশি মানুষকে হজ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। এর আগের বছর ২০২০ সালে শুধু ১০ হাজার সৌদি নাগরিককে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের হজের জন্য চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় নিবন্ধন করলেও কোনও হজযাত্রী করোনা মহামারির নিষেধাজ্ঞার কারণে হজে যেতে পারেননি। তবে হজ এজেন্সিগুলো আশা করছে, সীমিত সংখ্যক হলেও বাংলাদেশে থেকে হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী রমজান মাসের মধ্যে সৌদি সরকারের কোনও ঘোষণা আসতে পারে। তখনই নিবন্ধন, প্যাকেজ ঘোষণা, ফ্লাইট শিডিউল ঠিক হবে।
এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় গেলো নভেম্বর মাসে হজের প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা, এজেন্সির সঙ্গে বৈঠক করে। যেন সৌদি আরব অল্প সময়ের নোটিশে হজের অনুমতি দিলেও হজযাত্রী পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়।
এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, হজের বিষয়টি সৌদি আরবের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তারা অনুমতি দেবে কিনা, দিলে কতজনকে দেবে, কী কী বিধিনিষেধ থাকবে। তবে আমরা আশা করছি এবারের হজে বাংলাদেশে থেকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সৌদি সরকারের সঙ্গে হজ চুক্তি ছাড়া বিস্তারিত কোনও ঘোষণা দেওয়া সম্ভব না।
এইচকেআর