বিসিসির কাধে অর্ধশত কোটি টাকার বকেয় বিদ্যুৎ বিলের বোঝা

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা বকেয়া বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মাসের পর মাস বকেয়ার পরিমাণ পাহার সমান হলেও পরিষদের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর ফলে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিষদের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দফায় দফায় নোটিশ করে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সবশেষ গত ৩ মার্চ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে একটি নোটিশ দিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। যা মঙ্গলবার সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগে এসে পৌঁছায়।
যদিও বকেয়া বিদ্যুৎ বিল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান আমলের নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ। বর্তমান পরিষদ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। তার পরেও পূর্বের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘পানির পাম্প, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট, সড়ক বাতি, নগরভনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নাগরীক সুবিধার জন্য ওজোপাডিকো’র বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু সঠিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল জমা হচ্ছে না। বিশেষ করে তৎকালিন মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরন এর সময় থেকে বিদ্যুৎ বিলের পাহার জমতে শুরু করে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘তৎকালিন মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর দায়িত্বকালিন প্রায় পাঁচ বছরে এক টাকার বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ হয়নি। এ কারণে বকেয়া বিলের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। পরবর্তী বিএনপি’র মেয়র আহসান হাবিব কামালের নেতৃত্বাধিন পরিষদ থাকবস্থায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২২ কোটিতে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল এর সময়ে কয়েক কিস্তিতে বিদ্যুৎ বিলের কিছুটা বকেয়া পরিশোধ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বকেয়া পরিশোধ আবার বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে বর্তমান মেয়রের সময়ে সেই বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ১৯৮ টাকা। বিশাল অংকের এই বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দফায় দফায় নোটিশ করা সত্ত্বেও পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না বলে দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি’র বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘মুলত ২০০৭ সাল থেকেই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া জমতে থাকে। তবে এর আগেও কিছুটা বকেয়া ছিলো। সেটা বেশি একটা নয়। বর্তমানে আমাদের দুটি জোনে বকেয়া বিদ্যুতের পরিমাণ প্রায় ৪৭ কোটিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিক্রয় এবং বিতরণ কেন্দ্র-১ এ প্রতি মাসে বিল আসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া বিক্রয় এবং বিতরণ কেন্দ্র-২ এ বিল আসছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে দুটি জোনে বিসিসি’র ব্যবহৃত বিল আসছে ৪৫ লাখ টাকা। কিন্তু কোন মাসেই বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না। এজন্য আমরা দফায় দফায় নোটিশ করেও বকেয়া বিল আদায় করতে পারছি না। সবশেষ গত ৩ মার্চ নোটিশ করা হয়েছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল এর সময়ে কয়েক কিস্তিতে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছিলো। কিন্তু সেটা বেশি একটা নয়। তবে বর্তমান সময়ে এক টাকার বকেয়াও পরিশোধ করেনি। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। এখন আমাদের মন্ত্রণালয় (বিদ্যুৎ) থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ বলেন, ‘বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে বহুবার আলোচনা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসনের সভায় আমরা এই বিলের বিষয়টি উত্থাপন করেছি কিভাবে এই সমস্যা সমাধান করা যায় সে ব্যাপারে।
তবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে কথা হচ্ছে সেটা অনেক পুরানো বিল। অর্থাৎ পৌরসভার আমলে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া বাজতে শুরু করে। তবে বর্তমানে প্রতি মাসের বিল মাসেই পরিশোধ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে আমরা ট্যাক্স পাবো আর বিদ্যুৎ বিভাগ আমাদের কাছে বিদ্যুৎ বিল পাবে। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল এবং ট্যাক্সের টাকা হিসাব করে উভয় পক্ষের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে বকেয় বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে এখন আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
কে আর